
বিশেষ প্রতিবেদন
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গাইবান্ধায় চারজনের হাতে গুরুতর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক নারী সাংবাদিক। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মূল তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকের নাম মোছাঃ শাহরিন সুলতানা সুমা, যিনি দৈনিক প্রতিদিন খবর, জেটিভি ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার এবং আলোর ছোঁয়া মানব কল্যাণ সোসাইটির কর্মী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে সাংবাদিক শাহরিন সুলতানা সুমাকে ‘নিউজ করার কথা বলে’ গাইবান্ধা সদর থানার লক্ষ্মীপুর তেঁতুল তলা এলাকার রুহুল আমিনের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে প্রধান আসামী শাকিব মিয়া (পিতা: যুবরাজ মিয়া) এবং তার সঙ্গীরা সুমাকে লাঞ্ছিত ও বেদম মারপিট করে।শাকিব মিয়া লোহার রড দিয়ে তার মাথায় গুরুতর আঘাত করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। ২ নং আসামী শাহিন মিয়া (পিতা: যুবরাজ) যুবরাজের হুকুমে বাদীর ওড়না ধরে টান দেয় এবং শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ৪ নং আসামী মোছাঃ শাহিনুর বেগম (স্বামী: যুবরাজ) বাদীর গলা থেকে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেয়।
মারাত্মক জখম অবস্থায় সাংবাদিক সুমাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।ঘটনাটির প্রেক্ষিতে মোছাঃ শাহরিন সুলতানা সুমা গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলো: শাকিব মিয়া, শাহিন মিয়া, যুবরাজ (পিতা: মৃত জরমাল), এবং মোছাঃ শাহিনুর বেগম (সকলের সাং: মধ্য শান্তিরাম, সুন্দরগঞ্জ)।
আদালত মামলাটি গাইবান্ধা সদর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিলে, এসআই জোবায়ের বাদীর পক্ষে রিপোর্ট পেশ করেন। সম্প্রতি, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, গাইবান্ধার জজ এস এম গালিব হাসান এই মামলার মূল তিন আসামী শাকিব, শাহিন, ও যুবরাজকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়াও, আসামীদের পক্ষ থেকে সাক্ষীদের হাজির করার খরচের জন্য ধার্য করা ২৫০০ টাকা জরিমানা ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে বাদী সাংবাদিক সুমাকে দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী সাংবাদিক নির্যাতনকারী সকল আসামীর দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।