
নাটোর জেলা প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর কবির
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বন্ধুত্বের আড়ালে ঘটে যাওয়া এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে গেছে জনপদ। বালু লোড-আনলোডের কাজ করা যুবক সোহাগ (২৫) বন্ধুর ডাকে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু আর জীবিত অবস্থায় ফেরা হয়নি তার। তিন দিন পর তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।নিহত সোহাগের পিতা মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি বড়াইগ্রাম থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সোহাগ ছিলেন তার পিতার একমাত্র সন্তান। সংসারের হাল ধরতে দিনমজুরির কাজ করা এই যুবক ছিলেন বিবাহিত এবং রেখে গেছেন চার বছরের একটি শিশু সন্তান। বাবাহারা সেই শিশুর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোহাগ ও তার বন্ধু আকাশ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বালু লোড ও আনলোডের কাজ করতেন। ভালো কাজের আশ্বাস দিয়ে কয়েক দিন আগে সন্ধ্যার দিকে আকাশ সোহাগকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই সোহাগ নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।নিখোঁজের তিন দিন পর বড়াইগ্রাম তেল পাম্প সংলগ্ন একটি মোবাইল টাওয়ারের নিচে সোহাগের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।এ ঘটনার পর থেকেই আকাশের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সন্দেহভাজন হিসেবে তার নাম উল্লেখ করে বড়াইগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ জানায়, মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আগামীকাল সকালে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।বিষয়টি সম্পর্কে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।একটি বন্ধুত্বের বিশ্বাসই যে কখনো কখনো মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই ঘটনায় তা আবারও প্রমাণ হলো।