মমিনুল ইসলাম মুন স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত ও অনিরাপদ খননকাজের বলি হয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই বছরের শিশু সাজিদ। শিশুটির এই মর্মান্তিক মৃত্যুকে কোনোভাবেই দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, এটি পরিকল্পিত অবহেলা ও চরম দায়িত্বহীনতার ফল, যার দায় খননকারী কছির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বহন করতে হবে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া এলাকায় কছির উদ্দিনের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন সেচ পাম্প স্থাপন ও ঝুঁকিপূর্ণ খনন কার্যক্রম চলছিল। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই এসব খননকাজ পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ওই গভীর গর্তটি উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত শিশু সাজিদের মৃত্যুর কারণ হয়।এলাকাবাসী জানান, খননস্থলটি যে শিশু ও সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, সে বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, এটি নিছক অবহেলা নয়,বরং শিশুর জীবনের প্রতি চরম উদাসীনতা, যা হত্যার শামিল। তাই কছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে।ঘটনার পর কছির উদ্দিন আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জনমনে সন্দেহ ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি তিনি নির্দোষ হন, তবে কেন তিনি আইনের মুখোমুখি হচ্ছেন না। সাজিদের পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছে।এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্বপ্রণোদিতভাবে পুলিশ মামলা করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন ঘটনা আগে হলে মামলা হতো, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি ভিন্ন।তানোর ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ রউফ বলেন, ফায়ার সার্ভিস জনগণের সেবায় নিয়োজিত। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে গভীর গর্ত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছেন। মামলার বিষয়টি পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোনে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহলের মতে, দেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সাজিদের মৃত্যু আরেকটি চাপা পড়ে যাওয়া ট্র্যাজেডিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে অবৈধ সেচ পাম্প ও ঝুঁকিপূর্ণ খনন কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জরুরি।তানোরবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই দাবি শিশু সাজিদের জীবনের মূল্য যেন বৃথা না যায়। খননকারী কছির উদ্দিনসহ সকল দায়ীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করলেই কেবল এই নির্মম মৃত্যুর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬