মোঃ আবদুল্লাহ আল-মামুন
জন্মের প্রথম মুহূর্ত থেকেই একটি অবুঝ শিশুর জীবন শুরু হয় নতুন বিস্ময়ের ভুবনে। মায়ের কোলে নিরাপত্তা, ঘুমের কোণে ফুটে ওঠা মৃদু হাসি, আর প্রথম ডাগর চোখে পৃথিবীকে দেখার বিস্ময়, এসবই তার শৈশবের প্রথম পাঠ। হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটা শেখা, প্রথম শব্দ উচ্চারণ, ছোট ছোট সাফল্য দিয়ে পরিবারের প্রতিটি দিন হয়ে ওঠে আনন্দময়।
কিন্তু শৈশব শুধু মিষ্টি স্মৃতির নয়; এটিই ভবিষ্যৎ নির্মাণের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি। যখন শিশুটি প্রথম স্কুলে যায়, তখনই শুরু হয় তার স্বপ্ন দেখার যাত্রা। বইয়ের রঙিন পাতায় বিজ্ঞানীর ছবি তাকে গবেষণার স্বপ্ন দেখায়, শিক্ষকতার মমতা তাকে আদর্শ মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। খেলার ছলে প্রশ্ন করতে শেখা শিশুটি ধীরে ধীরে গড়ে তোলে নিজের ভাবনা, কৌতূহল আর সম্ভাবনার নতুন জগৎ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ; অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজ, এই তিন পক্ষের সমন্বিত দায়িত্বই একটি শিশুর মানসিক বিকাশ, নৈতিকতা ও স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। শিশুদের সঠিক দিকনির্দেশনা তার প্রতিভাকে পরিণত করে সমাজের সম্পদে, আর অবহেলা তাকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়। তাই প্রতিটি শৈশবকে নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রতিটি মা-বাবা, অভিভাবক ও জাতীয় দায়িত্ব।
একটি শিশুর ছোট্ট হাতে যে স্বপ্নের জন্ম হয়, তা একসময় বদলে দিতে পারে পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ। আজকের অবুঝ শিশুই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, শিক্ষক কিংবা নেতৃত্বদানকারী প্রজন্ম। তাদের স্বপ্নেই রচনা হবে উন্নত দেশগড়ার রূপরেখা।
আমাদের মনে রাখতে হবে ; একটি শিশুর চোখে জ্বলে ওঠা স্বপ্ন নিভে গেলে জাতির অগ্রযাত্রাও থেমে যেতে পারে। তাই প্রতিটি শিশু যেন তার স্বপ্নকে লালন করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে,এটাই সময়ের দাবি, এটাই আগামী দিনের উন্নত ও আলোকিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬