
গৃহস্থালি ও বাজারের কঠিন বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজার কমিটির দক্ষতা বৃদ্ধি সভা
এম,এ,মান্নান,স্টাফ রিপোর্টার
বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো গৃহস্থালি ও বাজার থেকে উৎপন্ন কঠিন বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব। গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায় এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে বর্জ্য খোলা স্থানে ফেলা, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, দুর্গন্ধ ছড়ানো এবং রোগজীবাণুর বিস্তার ঘটছে। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও বাজার ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গৃহস্থালি ও বাজারের বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজার কমিটিগুলোর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটির আয়োজন করে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এবং সহযোগিতায় ছিল ওয়াটারএইড বাংলাদেশ – সুইচ কনট্রাক্ট বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদ সভা কক্ষ, শ্রীমন্তপুর, নিয়ামতপুর উপজেলা, নওগাঁ জেলা-এ।অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ৭নং শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান। এছাড়াও সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্যবৃন্দ, বাজার কমিটির প্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং অন্যান্য অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় গৃহস্থালি ও বাজারভিত্তিক কঠিন বর্জ্যের বর্তমান অবস্থা, এর ধরন ও পরিমাণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা না করেই ফেলা হয়, যার ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদের অপচয় হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য বর্জ্য উৎপাদনের উৎস থেকেই পৃথকীকরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় বর্জ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও নিরাপদ নিষ্পত্তির আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। বিশেষ করে বাজার এলাকায় নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারণ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।সভাপতির বক্তব্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ, বাজার কমিটি ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আলোচনায় আরও উঠে আসে যে, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আচরণগত পরিবর্তন অপরিহার্য। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সভা-সমাবেশ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের দক্ষতা বৃদ্ধি মূলক সভা স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।পরিশেষে বলা যায়, গৃহস্থালি ও বাজারের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। ইউনিয়ন পরিষদ, বাজার কমিটি, উন্নয়ন সংস্থা ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ–সুইচ কনট্রাক্ট বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।