
তানোরে সার ডিলারদের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ, কৃষক বিপাকে
মমিনুল ইসলাম মুন স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) অনুমোদিত সার ডিলারদের বিরুদ্ধে সার বিপণন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত এলাকা অতিক্রম করে এক এলাকার ডিলার অন্য এলাকায় সার ব্যবসা করায় এলাকায় সার সংকট, ভেজাল ও নিম্নমানের সার বিক্রি বেড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকেরা।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, এলাকা ভিত্তিক সার ডিলার নিয়োগের উদ্দেশ্য যদি থাকে, তবে এক এলাকার ডিলার অন্য এলাকায় ব্যবসা করলে সেই নিয়োগের কার্যকারিতা কোথায়। একই সঙ্গে সার বরাদ্দের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার জানান, যারা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতা বজায় রাখেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি সার বরাদ্দ পান। বরাদ্দ সংক্রান্ত সিট পরীক্ষা করলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলায় সার বিপণন কার্যক্রমে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএডিসির নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদিত কোনো ডিলার নিজ নির্ধারিত এলাকার বাইরে সার ব্যবসা করতে পারেন না। নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ডিলারশিপ বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে তানোর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সার নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ ও নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিযোগিতায় কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অভিজ্ঞ মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চলতি আলু ও বোরো মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, যার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও পড়তে পারে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলায় বিএডিসির অনুমোদিত ২২ জন সার ডিলার রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, বাধাঁইড় ইউনিয়নের মেসার্স হাসিনা ট্রেডার্স ও জামান ট্রেডার্স নীতিমালা লঙ্ঘন করে মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় ব্যবসা করছেন। তালন্দ ইউনিয়নের মেসার্স চৌধুরী ট্রেডার্স ব্যবসা করছেন তানোর পৌর সদরে। পাঁচন্দর ইউনিয়নের মেসার্স সৈয়ব ট্রেডার্সও তানোর পৌর এলাকায় সার বিক্রি করছেন। একইভাবে কামারগাঁ ইউনিয়নের জন্য অনুমোদিত মেসার্স ব্রাদার্স ট্রেডার্স ব্যবসা করছেন মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে।
এ বিষয়ে মেসার্স ব্রাদার্স ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন বলেন, তাকে কামারগাঁ ইউনিয়নে ব্যবসা করার নির্দেশনা কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ তাকে সেখানে ব্যবসার অনুমতি দিচ্ছেন না।
উপজেলা বিএডিসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, সার বিপণন নীতিমালা আগামী মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। মার্চের পর উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএডিসি রাজশাহীর উপপরিচালক (সার) জুলফিকার আলী বলেন, ডিলার নিয়োগ দেয় বিএডিসি, তবে মাঠপর্যায়ে দেখভাল করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তিনি এলাকার সারের চাহিদা বিবেচনা করে ডিলারদের কোথায় ব্যবসা করবেন সে বিষয়ে অনুমতি দিয়ে থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কল গ্রহণ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।