
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী সদর প্রতিনিধি
পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভায় শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান
মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, ফেনী জেলা শাখা।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে সংগঠনের ফেনী জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ ফেনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার ফেনী জেলা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হানিফ (সাংবাদিক)। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব আবুল কাশেম।
সভা সঞ্চালনা করেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার দাগনভুঁইয়া উপজেলা সহ-সভাপতি জনাব সাইফুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার ফেনী জেলা প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তা জনাব আবু বক্কর ছিদ্দিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, উসমান গনী, শহিদুল ইসলাম রোকসানা আক্তার সুমি,আইয়ুব নবী সবুজ সহ ফেনী জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব আবুল কাশেম বলেন,
“মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয় আমাদের জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। লাখো শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন,
“মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা সময়ের দাবি।”
সভাপতির বক্তব্যে ফেনী জেলা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হানিফ (সাংবাদিক) বলেন,
“১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির গর্ব, অহংকার ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেইসব বীর শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি।”
তিনি বলেন,
“শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীনতা পরবর্তী রাষ্ট্র গঠনে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর সাহসী ভূমিকা ও নেতৃত্ব জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেছিল।”
এ সময় তিনি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া প্রার্থনা করেন।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
আলোচনা সভা শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।