
রিপন সরকার বাঞ্ছারামপুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নে মাদক এখন অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। তিনটি প্রধান স্পটকে কেন্দ্র করে তিনজন ডিলারের নিয়ন্ত্রণে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। ফলে এলাকা আজ মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে, আর সাধারণ মানুষ বাস করছে ভয় ও আতঙ্কের ছায়ায়। তিন ডিলারের দাপট স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নে তিন ডিলার পুরো এলাকা ভাগ করে নিয়েছে। প্রথম ডিলার: আলিপুর থেকে সক্রিয় এই ডিলার মনাই খালী, পঞ্চমপুর ও নতুনহাটি এলাকায় তার শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে।
দ্বিতীয় ডিলার: পঞ্চমপুর কেন্দ্র করে তেলিকান্দি, দুর্গাপুর, পদ্মপুর ও ভগনাথপুর এলাকায় তার প্রভাব বিস্তার করেছে। তৃতীয় ডিলার: ধারিয়ারচর, নদী পাড়, দক্ষিণপাড়া ও খোষকান্দী পশ্চিমপাড়ায় তার একক আধিপত্য রয়েছে। এভাবে পুরো সদর ইউনিয়নকে ভাগ করে নিয়ে তারা প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি – নেই কোনো ভয়ভীতি এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের বেলাতেই খোলা বাজারে মাদক কেনাবেচা হয়। রাতের আঁধারে তো কথাই নেই— তখন ইয়াবার বড় চালান আসে এবং স্থানীয় যুবকদের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ে। এই দৃশ্য দেখে সবাই আতঙ্কিত হলেও প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ মাদকের এমন ভয়াবহ বিস্তার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মাঝে ছোটখাটো অভিযান হলেও মূল ডিলাররা থেকে যাচ্ছে অদৃশ্য। বরং তারা আরও শক্তিশালী হয়ে এলাকাজুড়ে প্রভাব বিস্তার করছে। তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে মাদকের কবলে পড়ে অনেক কিশোর-তরুণ পড়াশোনা ছেড়ে আসক্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকরা বলছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। কিছু শিক্ষার্থী মাদক সেবনের কারণে অপরাধ প্রবণ হয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় সামাজিক কাঠামোকেও ভেঙে দিচ্ছে।
জনপ্রতিনিধিদের নীরবতা ও জনরোষ এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধিরা কি এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন না? নাকি নীরব সমর্থন দিচ্ছেন ডিলারদের? মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে আওয়াজ তুলতে সাহস পাচ্ছে না। মানববন্ধন ও অভিযানের দাবি স্থানীয়রা বলছেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন পুরোপুরি মাদকের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাবে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিশেষ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ, মসজিদ-মাদরাসা ভিত্তিক সচেতনতা এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।