
মোঃ এমদাদুল হক ভূইয়া নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় নরসুন্দা নদীর পাড় দখল করে পাকা বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে উপজেলার মুসুল্লি ইউনিয়নের তারেরঘাট বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নরসুন্দা নদীর পাড় ঘেঁষে একটি পাকা বহুতল ভবনের কাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদী দখল করে নির্মাণাধীন ভবনটি স্থানীয় প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান বাচ্চু নির্মাণ করছেন।স্থানীয়রা জানান, নির্মাণাধীন ভবনের বিপরীত পাশে তার মালিকানায় আরেকটি দোতলা পাকা ভবন রয়েছে। এই দুটি ভবনের মাঝখানে একটি কার্পেটিং সড়ক অবস্থিত। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও সরকারি জায়গা দখলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এলাকায় ঘুরে আরও দেখা যায়, ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের তারেরঘাট বাজারের প্রবেশমুখে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি বড় সেতু রয়েছে। ওই সেতুর পশ্চিম পাশে নদীর পাড় ঘেঁষেই নির্মাণকাজ চলছিল। নদীর দুই পাড়ে নির্মাণাধীন ভবনটি ছাড়া অন্য কোনো পাকা স্থাপনা চোখে পড়েনি।
স্থানীয়দের অভিযোগের পর নান্দাইল উপজেলা প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। তবে প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে থেমে থেমে কাজ চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. হাবিবুর রহমান বাচ্চু দাবি করেন, জমিটি তার নিজস্ব সম্পত্তি। তিনি বলেন, “নদীর পাড়ের ভেতরে আরও প্রায় ৫০ ফুট জমি আমার মালিকানাধীন রয়েছে।তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) মো. মুখলেছুর রহমান বলেন,সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন স্থাপনাটি কোনো ব্যক্তিগত জমিতে নয়। এটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমির আওতাভুক্ত।এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বিজয় চন্দ্র বসাক জানান,সড়ক ও সেতুর দুই পাশে সওজের নিজস্ব জমি রয়েছে। তদন্তে যদি প্রমাণ হয় স্থাপনাটি সওজের জমিতে নির্মিত, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তা অপসারণ করা হবে।নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখতে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে- নদী দখল ও সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।