টেকনাফে সীমান্ত বিজিবি’র বিশেষ সাড়াশী অভিযানে বিপুল পরিমাণে মাদক উদ্ধার।
মো মোজাম্মেল হক,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার:
কক্সবাজারের টেকনাফ দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়নে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গত ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ টেকনাফ উপজেলার নাফ নদী সংলগ্ন এসআর খাল ও পার্শ্ববর্তী কেওড়া জঙ্গলে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযানে ভয়াল মাদক ক্রিস্টাল মেথ আইসসহ বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে টেকনাফ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ আইস পাচারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নজরদারী বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্তে মোতায়েন পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে আভিযানিক তৎপরতা জোরদার করে। গোপন সূত্রে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ ২ বিজিবি সীমান্ত জুড়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং জেলেরা বিজিবিকে পাচারকারীদের সন্দেহজনক গতিবিধির বিষয়টি অবহিত করলে, অধিনায়ক ২ বিজিবি’র নেতৃত্বে বিশেষ তিনটি টহল দল নাফ নদী সংলগ্ন এসআর খাল ও পার্শ্ববর্তী কেওড়া জঙ্গলে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলাকাটি ঘিরে রেখে দীর্ঘ ১২ ঘন্টা ধরে তল্লাশী চালায়। অবশেষে, এসআর খাল সংলগ্ন হ্যাচারী নামক স্থান হতে ০৪৪৫ ঘটিকায় ২.০৬৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস ও ৩০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় জেলে ও অন্যান্যদের কাছ থেকে জানা যায়, অজ্ঞাত পাচারকারীরা কিছু মাদক লুকিয়ে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ নিয়ে দমদমিয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নামক এলাকার দিকে পালিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত সকলকে সতর্ক অবস্থানে রেখে অজ্ঞাত পাচারকারীদের খোঁজে তদন্ত চলমান রেখে একই সময়ে ২ বিজিবি পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। লুকিয়ে থাকা পাচারকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নামক এলাকায় তাদের কাছে থাকা অবশিষ্ট মাদক নদীতে ফেলে স্থানীয় জনসাধারনের ভীড়ে লুকিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবি অভিযান দল নাফ নদীর তীরবর্তী সাইরান খালের পানিতে ভেসে থাকা ৮০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন, “সীমান্তাঞ্চলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। যা, স্থানীয় জনমনে গভীর আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাবের সঞ্চার ঘটিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানব ও মাদক পাচারসহ সকল প্রকার আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি'র এই বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” এছাড়াও তিনি তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেদের সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬