আমজাদ হোসেন মিঠু
শীতের আমেজ শুরু হতেই ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি আর জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যায়। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক ও প্রাণহীন। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভয়ের কিছু নেই; শীতের এই সময়টাতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে আপনার প্রধান সুরক্ষা কবজ।শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখতে এবং রোগমুক্ত থাকতে এই মৌসুমে কোন খাবারগুলো অপরিহার্য, তার একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:১. রঙিন সবজিতেই লুকিয়ে সুস্থতার চাবিকাঠি শীতের বাজারে এখন পালং শাক, গাজর, বিট ও ব্রোকলির জয়জয়কার। পালং শাকে থাকা আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্তাল্পতা দূর করে শরীরকে রাখে সতেজ। অন্যদিকে, গাজরের বিটা-ক্যারোটিন চোখের জ্যোতি বাড়াতে এবং বিট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ফুলকপি ও ব্রোকলির ফাইবার ও ভিটামিন-সি অত্যন্ত কার্যকর। ২. ভিটামিন-সি ও ইমিউনিটি বুস্টার শীতের সাধারণ সমস্যা সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে টক জাতীয় ফলের বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত একটি আমলকী বা কমলা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। আমলকীকে বলা হয় ভিটামিন-সি-এর পাওয়ার হাউস, যা শুধু ইমিউনিটিই বাড়ায় না, বরং চুল ও ত্বককেও রাখে উজ্জ্বল।৩. শরীর গরম রাখবে মধু ও আদা চিনির বদলে ডায়েটে মধু ও গুড় যুক্ত করা এই সময়ের বুদ্ধিমানের কাজ। আদা, রসুন ও গোলমরিচ শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, এগুলো প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক হিসেবে শরীরকে উষ্ণ রাখে। প্রতিদিন সকালে আদা চা বা তুলসী পাতার রস পানে মিলবে দীর্ঘমেয়াদী উপকার।৪. প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে সেদ্ধ ডিম প্রোটিনের চাহিদা মেটায়। এছাড়া সামুদ্রিক মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্ট ভালো রাখার পাশাপাশি শীতকালীন শুষ্ক ত্বক থেকে মুক্তি দেয়। বিকেলের নাস্তায় কাঠবাদাম, আখরোট বা কুমড়ার বীজ রাখলে তা মস্তিষ্ক ও শরীরের কোষকে সচল রাখে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগলেও পর্যাপ্ত জল পান করতে ভুলবেন না। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় সহজেই। এছাড়া সুস্থ থাকতে ভেষজ চায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর একটু সচেতনতাই পারে আপনাকে এই পুরো শীতজুড়ে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬