আবু বকর সিদ্দিক মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।নিহত মোসা.জান্নাত (২১) সাত মাস বয়সী এক কন্যাসন্তানকে রেখে গেছেন। উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের ধাইরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।জান্নাত নওপাড়া গ্রামের মেয়ে এবং খিদিরপাড়া ইউনিয়নের গৃহবধূ ছিলেন।স্বামী আনোয়ারের বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহতের পরিবারের দাবি,এটি আত্মহত্যা নয়-এটি পরিকল্পিত হত্যা।বিয়ের পর থেকেই জান্নাতের দাম্পত্য জীবন অশান্ত ছিল বলে জানান স্বজনরা।শ্বশুর-শাশুড়ি, দুই ননদ,এক জা ও ননদের স্বামীসহ একই বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি।পরিবারের অভিযোগ,জান্নাত দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।গর্ভাবস্থায়ও তাকে নির্যাতন করা হয় এবং একবার গরম চটার ছ্যাঁকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ঘটনায় গ্রামে সালিশও হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।নিহতের স্বজনদের দাবি,আনোয়ারের এটি দ্বিতীয় বিয়ে এবং পরকীয়ার বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলেই জান্নাতের ওপর নির্যাতন বেড়ে যায় বলে অভিযোগ।ঘটনার দিন জান্নাতকে মৃত অবস্থায় অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।স্বজনদের অভিযোগ,শ্বশুর-শাশুড়ি মরদেহের ওপর পা রেখে হাসপাতালে নিয়ে যান।স্থানীয়রা জানান,জান্নাতকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেলেও তার গলায় কোনো দাগ ছিল না।চুল এলোমেলো থাকায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন অনেকে।পুলিশ আসার আগেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন মরদেহ নামান,যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।নিহতের বাবা ও গ্রামবাসীরা থানায় গেলেও মামলা রেকর্ড হয়নি।এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।লৌহজং থানার ওসি বলেন, অভিযোগ নেওয়া হয়েছে,তবে বাদি ছাড়া মামলা নেওয়া সম্ভব নয়।তদন্ত কর্মকর্তা জানান,ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মামলা লেখা যাবে না।এ ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬