
মুকসুদপুর গোপালগঞ্জ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মুকসুদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম শিমুল। তার এই মনোনয়নপত্র কেনার মধ্য দিয়ে এ আসনের ভোটের সকল হিসাব নিকাশ অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গেল বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
আশরাফুল আলম শিমুলের পিতা খায়রুল বাকী মিয়া ১৯৮৫ সালে মুকসুদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় এলাকার ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ করেন। এর কারনে উপজেলা জুড়ে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। পিতার সুনাম আর ব্যক্তিগত ইমেজকে পুজি করে আশরাফুল আলম শিমুল ২০০৯ সালে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কোন নির্বাচনেই তিনি পরাজিত হননি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েও তিনি প্রতিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর উপজেলা-কাশিয়ানী উপজেলার আংশিক) আসনে বিএনপি থেকে সেলিমুজ্জামান সেলিম, এনসিপি থেকে প্রলয় কুমার পাল, আমজনতা দল থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাবির মিয়া, এবি পার্টি থেকে প্রিন্স আল আমিন, জনতা দল থেকে মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে এসরান হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে অ্যাডঃ মোঃ মিজানুর রহমান এবং স্বতন্ত্র থেকে আশরাফুল আলম শিমুল, এম আনিসুল ইসলাম, মোঃ সুজাউদ্দিন অপুসহ ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তবে, এখন পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থী সাবেক আমীর মওলানা আব্দুর হামিদ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি।
আশরাফুল আলম শিমুল বলেন, এই আসনের মানুষ আমার পিতাকে ভালবাসতেন। এ কারণে বিগত দিনে প্রতিটি নির্বাচনে তারা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। তারা আমাদের পরিবারকে ভোট দিতে স্বস্তি পান। আমরাও ভোটারদের সেবা করি। তাদের বিপদে-আপদে সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করি। পদ্মা সেতুর কারণে গোপালগঞ্জ-১ আসন ভৌগলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি নির্বাচিত হলে এখানে নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা করে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে কাজ করবো, যাতে এলাকার মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির হয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসনে আশরাফুল আলম শিমুলের পিতা খায়রুল বাকী মিয়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। শিমুলের পিতা এলাকায় যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনি তার উত্তরসূরী হিসেবে তিনিও সমানতালে জনপ্রিয়।