রাজশাহী ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের প্রবণতা কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। উপজেলার ২ নম্বর কিসমত গনকৈড় ইউনিয়নের ধামইন গ্রামের একটি বিলে প্রকাশ্যে চলছে পুকুর খনন কার্যক্রম। এতে একদিকে যেমন আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পুকুরের মাটি পরিবহনের সময় রাস্তায় মাটি পড়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় খননকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।পুকুর খননকে কেন্দ্র করে এলাকায় ইতোমধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ও অর্থশালী একটি চক্র ভাড়াটে লোকজন ব্যবহার করে স্থানীয় জমির মালিক ও কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পুকুর খননকে কেন্দ্র করে এক জমির মালিক ভেকু চাপায় নিহত হওয়ার ঘটনার পর দুর্গাপুরের মানুষও শঙ্কায় রয়েছে যেকোনো সময় এখানে একই ধরনের সহিংসতা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাহেরপুর এলাকার এক মাছ ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীরা আড়াল থেকে এই পুকুর খননের সঙ্গে জড়িত। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে একটি প্রভাবশালী গ্রুপের মাধ্যমে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।ভুক্তভোগী কৃষক ইব্রাহিম হোসেন জানান,পুকুর খননকারী মোস্তফা কোনো রকম অনুমতি বা কথা না বলেই আমার সরিষা ক্ষেত মাটি ফেলে ভরাট করে দিয়েছে। অথচ আমি তিন বছরের জন্য জমিটি লিজ নিয়েছি। একই অভিযোগ করেন আরও কয়েকজন কৃষক। তারা বলেন, আবাদ করা সরিষার জমি মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে।এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা মুঠোফোনে বলেন, “আমরা নিয়মিত সেখানে অভিযান পরিচালনা করেছি। এ ঘটনায় একটি মামলাও হয়েছে। বিষয়টি এখন পুলিশ দেখছে।দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন,মামলার পর একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে সে জামিনে রয়েছে। ইউএনও মহোদয় আবার অভিযান পরিচালনা করলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান জানান, “ওই ঘটনায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। আসামি জামিনে আছে, বিষয়টি পুলিশ দেখছে। আমাদের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্টসহ নিয়মিত অভিযান চলছে। ইউএনওকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুত আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬