
বড়াইগ্রামে ফেসবুক লাইভ নিয়ে উত্তেজনা: ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি, সংবাদ সম্মেলন ও জিডি
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি: মোঃ আলমগীর কবির
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ ও পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সংবাদ সম্মেলন করেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বড়াইগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার জোনাইল এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে কুশমাইল ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ওয়ার্ড সভাপতি মো. ওসমানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে আটক করা হলে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মীমাংসা সম্পন্ন করেন।
তবে অভিযোগ করা হয়, মীমাংসার পর ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতদের প্রথমে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তারা বর্তমানে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকেই আইনগত প্রক্রিয়ায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, ঘটনার প্রকৃত তথ্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে জনসম্মুখে তুলে ধরতে গিয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জোনাইল ইউনিয়ন সেক্রেটারি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি লাইভ ও পোস্ট প্রকাশ করেন। এর পরই অভিযুক্ত পক্ষ তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরিতে মো. জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেন, গত ২৪ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে বড়াইগ্রাম থানাধীন জোনাইল বাজারে তার ওষুধের দোকানের সামনে এসে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভবিষ্যতে তাদের কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
জিডিতে আরও বলা হয়, এসব হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সময় স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে সহিংসতা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনো সভ্য ও আইনের শাসনভিত্তিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে আইনবিরোধী। তারা কুশমাইল ও জোনাইল এলাকায় সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যার হুমকির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান বক্তারা।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম, সেক্রেটারি ডা. জাহাঙ্গীর আলম, সরকারি সেক্রেটারি মো. হাফিজ উদ্দিন আলতাফ, বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী জোনাইল ইউনিয়নের আমির মো. মাহাবুবুল আলম, সেক্রেটারি মো. আজমত আলী, ইউনিয়ন যুব বিভাগের শাকিল হোসেন, প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুল সালাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি মো. হারুনুর রশিদ এবং যুব বিভাগের সভাপতি মো. মহসিন আলী সহ আরো অনেকে।