
পাংশায় গণপিটুনিতে সম্রাট নি হ তের ঘটনায় হ ত্যা সহ তিন মা ম লা।
মো: তুহিন মন্ডল পাংশা রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নে চাঁদাবাজির অভিযোগে গণপিটুনিতে সম্রাট বাহিনীর প্রধান অমৃত মন্ডল (৩৫) ওরফে সম্রাট নিহতের ঘটনায় পাংশা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের ভাই অমিয় মন্ডল বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এছাড়া চাঁদাবাজি ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আরও দুটি মামলা হয়েছে। নিহত অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের কামারের মোড় এলাকার মৃত অক্ষয় মন্ডলের ছেলে।
পাংশা মডেল থানা সূত্র জানায়, বুধবার রাতে অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে হোসেনডাঙ্গা গ্রামের শহিদ শেখের বাড়িতে যান। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে শহিদ শেখ চিৎকার শুরু করেন। এতে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে সম্রাট ও তার সহযোগীদের গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সম্রাট ও তার সহযোগী সেলিমকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সম্রাটকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় সেলিমের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়।
এদিকে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশের তথ্যমতে ঘটনাটি কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক নয়। এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভুত সহিংস ঘটনার ফল। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে এলাকায় উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান। তার নামে ২০২৩ সালে দায়ের করা একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সরকার কঠোর নিন্দা জানিয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা যেকোনো ধরনের সহিংসতা সরকার কোনোভাবেই সমর্থন করে না।
পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র উদ্ধার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।