মোঃ রমজান মিয়া
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বনখড়িয়া এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, বনদখল ও দেহব্যবসার অভিযোগে আলোচিত মো. আইনুদ্দিনকে ঘিরে এবার এক নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী জুথি আক্তার সুমিতার অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আইনুদ্দিন তাকে ফোন করে বনে ডেকে নেন। বিয়ের আশ্বাসে বিশ্বাস করে শাড়ি পরে সেখানে গেলে তিনি দেখতে পান, আইনুদ্দিনের সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী উপস্থিত। পরে কৌশলে তাকে বনের অন্ধকার স্থানে নিয়ে গিয়ে আইনুদ্দিন ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে অচেতন অবস্থায় তাকে রাস্তার পাশে একটি ফ্যাক্টরির সামনে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর স্বজনরা পুলিশকে অবহিত করলে পরে জুথি আক্তারকে উদ্ধার করা হয়। আরও ভয়াবহ অভিযোগ উঠে আসে—ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার পর আইনুদ্দিন ফোন করে দাবি করে যে জুথিকে মেরে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনুদ্দিনের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বনখড়িয়া এলাকায় মাদক কারবার, বনজ গাছ ও মাটি কাটা, দেহব্যবসা, ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং একাধিক বিয়ের মতো অপরাধের সঙ্গে আইনুদ্দিন সরাসরি জড়িত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্ষমতার দাপটে এতদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি; প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর এলাকাবাসী আর নীরব থাকতে রাজি নয়। তাদের উদ্যোগে শ্রীপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হলেও অভিযুক্ত আইনুদ্দিন এখনো প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে—এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬