এম,এ,মান্নান,স্টাফ রিপোর্টার
চলচ্চিত্র আধুনিক সভ্যতার এক অনন্য শিল্পমাধ্যম। এটি একই সঙ্গে বিনোদন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সচেতনতার শক্তিশালী বাহন। মানুষের হাসি–কান্না, স্বপ্ন–বাস্তবতা, সংগ্রাম–সাফল্য সবকিছুই চলচ্চিত্রের পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। বিশ্বজুড়ে এই শিল্পমাধ্যমের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ব চলচ্চিত্র দিবস পালন করা হয়। এই দিনটি আমাদের চলচ্চিত্রের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দেয়।চলচ্চিত্রের ইতিহাস শুরু হয় উনিশ শতকের শেষভাগে। ১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় প্রথম জনসমক্ষে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণেই ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ব চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়। প্রথমদিকে চলচ্চিত্র ছিল নীরব ও সাদাকালো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শব্দ সংযোজন, রঙের ব্যবহার, উন্নত ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্প অভূতপূর্ব উন্নতি লাভ করেছে। আজকের দিনে ডিজিটাল প্রযুক্তি, অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট চলচ্চিত্রকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।বিশ্ব চলচ্চিত্র সমাজ ও মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এটি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মানুষের চিন্তাভাবনাকে নাড়া দেয়। অনেক চলচ্চিত্র দারিদ্র্য, যুদ্ধ, শোষণ, বৈষম্য, নারী অধিকার, শিশু অধিকার ও পরিবেশ সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নির্মিত হয়েছে, যা দর্শকদের সচেতন করে তোলে। চলচ্চিত্র কখনো প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে, কখনো আবার নীরবে সমাজ পরিবর্তনের বীজ বপন করে।চলচ্চিত্র মানুষের মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আনন্দ, কৌতুক ও রোমাঞ্চের মাধ্যমে এটি মানুষের ক্লান্ত মনকে প্রশান্তি দেয়। আবার অনুপ্রেরণামূলক চলচ্চিত্র মানুষকে জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়, আত্মবিশ্বাস ও সাহস জোগায়। এ কারণেই চলচ্চিত্রকে অনেক সময় “চলমান জীবন” বলা হয়।বিশ্ব চলচ্চিত্রে বিভিন্ন দেশের অবদান উল্লেখযোগ্য। হলিউড, ইউরোপীয় সিনেমা, ইরানি, জাপানি ও ভারতীয় চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলা চলচ্চিত্রও বিশ্ব চলচ্চিত্রে গৌরবোজ্জ্বল স্থান দখল করে আছে। সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক ও মৃণাল সেনের মতো কিংবদন্তি নির্মাতারা তাঁদের সৃষ্টিশীল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন। তাঁদের চলচ্চিত্র আজও মানবজীবনের বাস্তবতা ও গভীর দর্শনের জন্য সমাদৃত।বিশ্ব চলচ্চিত্র দিবস আমাদের দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। এই দিনে আমরা ভাবতে পারি—কেমন চলচ্চিত্র আমরা তৈরি করছি এবং কেমন চলচ্চিত্র দেখছি। অশ্লীলতা ও সহিংসতার পরিবর্তে শিক্ষামূলক, রুচিশীল ও মানবিক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও উপভোগ করা জরুরি। সুস্থ চলচ্চিত্র সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এই দিবসের মূল শিক্ষা।পরিশেষে বলা যায়, ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ব চলচ্চিত্র দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার মহাউদ্যাপন। চলচ্চিত্র মানুষের হৃদয়ের ভাষায় কথা বলে, দেশ–কাল–সীমা অতিক্রম করে মানুষকে এক সূত্রে বাঁধে। তাই বিশ্ব চলচ্চিত্র দিবস আমাদের সবাইকে চলচ্চিত্রের ইতিবাচক শক্তিকে সম্মান করতে এবং একটি সুন্দর, মানবিক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬