
নান্দাইলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সং ঘর্ষ, সেনাবাহিনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি, আ হত ২০-২৫ জন
মোঃ এমদাদুল হক ভূইয়া
নান্দাইল (উপজেলা) প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের পাঁচরুখি বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে মাইকিংয়ের মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও প্রথমে তা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচরুখি গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া (৫০) নামের এক আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিদেশে লোক পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অন্তত ১৫ জনকে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে পাঠালেও সেখানে গিয়ে অনেকেই কাজ না পেয়ে বিপাকে পড়েন। কেউ কেউ পুলিশের হাতে আটক হন, আবার কেউ পালিয়ে বেড়ান। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা বাচ্চু মিয়ার কাছে বিচার চাইতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার জেরে রোববার সকালে সোহেল ভেন্ডারের পক্ষ থেকে বাচ্চু মিয়ার অপকর্মের প্রতিবাদ জানাবেন বলে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর বাচ্চু মিয়ার পক্ষ থেকেও একইভাবে প্রতিহতের ঘোষণা আসে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই দুই গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজিত জনতাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের অভিযোগে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং আত্মরক্ষার্থে একটি ঘরে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুর কালাম জানান, হঠাৎ লাঠিচার্জে কয়েকজন গুরুতর আহত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে জনতার মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে বাচ্চু মিয়া দাবি করেন, সোহেল ভেন্ডার তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার লোকজন নিয়ে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়।
সোহেল ভেন্ডার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সালিস-দরবার করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা বিচার চাইতে এলে বাচ্চু মিয়ার কাছে জবাব চাইলে তাকে মারধর করে দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার জেরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমীন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী সহায়তা করেছে। এ সময় দৌড়ঝাঁপে এক বৃদ্ধ আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মোর্শেদ জানান, তারা কোনো লাঠিচার্জ করেননি। লোকজন দৌড়াদৌড়ির সময় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। কিছু ব্যক্তি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।