ঐক্যবদ্ধ বিএনপির কোনো বিকল্প নেই: শরিফ উদ্দিন
মমিনুল ইসলাম মুন স্টাফ রিপোর্টার (রাজশাহী ):
রাজশাহী-১ তানোর গোদাগাড়ী সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সামরিক সচিব ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত শরিফ উদ্দিন বলেছেন, দেশ পরিচালনায় যেমন বিএনপি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কোনো বিকল্প নেই, তেমনি রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ বিএনপিরও কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার রাজশাহী-১ আসনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে দেশ গড়ার পরিকল্পনা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় গোদাগাড়ীতে।
শরিফ উদ্দিন বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা লুটপাট ও জ্বালাও পোড়াও করে সেই দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ বিএনপির বিকল্প নেই এবং ঐক্যবদ্ধ বিএনপির বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
তিনি বলেন, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ও শহীদ জিয়ার আদর্শ তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে। কেবল মুখে শহীদ জিয়ার স্বপ্নের কথা বললেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন, অর্থনৈতিক কর্মসূচি, উৎপাদন, উন্নয়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিএনপি আপোষহীন। এ বিষয়টি নেতাকর্মীদের হৃদয়ে ধারণ করে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। কেন বিএনপি করি, অন্য দলের সঙ্গে বিএনপির পার্থক্য কী, মানুষ কেন বিএনপিকে ভালোবাসে ও সমর্থন করে এসব বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকলে নেতাকর্মীরা আরও নিবেদিত হয়ে কাজ করতে পারবেন।
শরিফ উদ্দিন বলেন, বিএনপি অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক। সাধারণ মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার রক্ষায় বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামীতেও করবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় আঠারো বছর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে ছিলেন। এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণ করার একটি প্রক্রিয়ার অংশ। ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের সময় একটি ফ্যাসিস্ট চক্র ক্ষমতা দখল করে রাজনীতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালায়। সে সময় তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে আটক করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় প্যারোলে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানো হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে দেশে ফেরার পথ রুদ্ধ করা হয়।
তিনি বলেন, বিগত সতের বছর দেশে গুম, খুন, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক ও যুব সমাজ সবাই বঞ্চিত ছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন ঘটে। এই আন্দোলনে বিভিন্ন বয়সের বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হয়।
তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের ফলেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং চলতি মাসের ২৫ তারিখ তিনি দেশে ফিরে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সংবর্ধনা পান। এ সময় তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলে ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মোতালেব হোসেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকাশ আলীসহ জেলা ও উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬