
বিশেষ প্রতিবেদন
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় পুলিশ প্রশাসন জনগণের সেবক এটাই সংবিধানসম্মত প্রত্যাশা। কিন্তু বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামানের সাম্প্রতিক আচরণ সেই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। জনস্বার্থে তথ্য জানার অধিকার সাংবাদিকদের আছে, আর সেই তথ্য দেওয়ার নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব প্রশাসনের। অথচ বারবার দেখা যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে গণমাধ্যমকে তথ্য না দিয়ে হুংকার, দম্ভ ও ভয়ভীতির ভাষায় কথা বলা হচ্ছে। এটি কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল আচরণ? আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই হুংকারি ভাষা অনেকের কাছে অতীতের দুঃশাসনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। “হাসিনা কায়দা”র মতো কর্তৃত্ববাদী ভঙ্গিতে ক্ষমতার অপব্যবহার কি নতুন বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? প্রশ্ন থেকেই যায়।
এখানেই শেষ নয়। প্রকাশ্যে নিজের অধস্তন সদস্য, এমনকি বডিগার্ডকে ‘তুই-তাগারি’ করে অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলা এটি শুধু ব্যক্তিগত রুচির সমস্যা নয়, এটি পুরো পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একজন থানার প্রধান যদি নিজেই শিষ্টাচার ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে সাধারণ জনগণ ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা রাখবে কীভাবে?
আজ সাংবাদিক সমাজ রীতিমতো লজ্জিত ও বিব্রত। কারণ প্রশ্ন করলেই যদি হুমকি আসে, তথ্য চাইলে যদি অপমান জোটে তবে স্বাধীন সাংবাদিকতা টিকে থাকবে কীভাবে? ভয় দেখিয়ে, তথ্য চেপে রেখে কি সত্য চাপা দেওয়া যায়? ইতিহাস বলে যায় না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই সমালোচনা মানেই শত্রুতা নয়। প্রশ্ন মানেই ষড়যন্ত্র নয়। গণমাধ্যমের কাজ প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা। আর সেই জবাবদিহি এড়িয়ে ক্ষমতার দাপট দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি। বোরহানউদ্দিন থানায় আসলে কীভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ হচ্ছে, গণমাধ্যমের সঙ্গে আচরণ কেমন তা খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবি। নচেৎ একজন কর্মকর্তার আচরণের দায় পুরো বাহিনীকে বইতে হবে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়। নতুন বাংলাদেশে আমরা হুংকারের পুলিশ চাই না, আমরা চাই জনতার পুলিশ। ভয়ের নয়, বিশ্বাসের প্রশাসন।