
অপু দাস রাজশাহী ব্যুরো প্রধান
বাংলাদেশ বোর্ড অফ ইউনানী এন্ড আয়ুর্বেদিক বোর্ডের ২০২৫ সালের কোয়ালিফাইং পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। এ পরীক্ষায় মাগুরার প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ থেকে মোট ১০১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বাবুল হোসেন ফলাফল প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের কলেজ থেকে যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদের প্রায় সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে বলে আমি আশাবাদী।” তিনি আরও জানান, যেহেতু ফলাফল অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে, তাই এখনো আনুষ্ঠানিক রেজাল্ট শিট হাতে পাননি। তবে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে তিনি শতভাগ সাফল্যের প্রত্যাশা করছেন।
অধ্যক্ষ বাবুল হোসেন কলেজের শিক্ষকদের ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষকেরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুত করেছেন। এজন্য আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
প্রাকৃতিক উপাদাননির্ভর ট্রেডিশনাল মেডিসিন বা দেশীয় চিকিৎসা পদ্ধতি বর্তমানে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই কোনো না কোনোভাবে এই চিকিৎসা পদ্ধতির চর্চা রয়েছে। ট্রেডিশনাল মেডিসিনের প্রধান দুটি ধারা হলো—ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতি এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি।
খুলনা বিভাগের একমাত্র আয়ুর্বেদিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে মাগুরার প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর নতুন নতুন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক তৈরি করছে এবং একই সঙ্গে এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। পাশাপাশি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিস্তারে কলেজটির ভূমিকা এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত।
১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকায়, মাগুরা–যশোর মহাসড়কের পাশে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। কলেজটির রয়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠা টিনশেড ভবন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতি শুক্রবার কলেজ আউটডোরে বিনা ফিতে রোগী দেখার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ উপকার বয়ে আনছে।
ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ভবিষ্যতেও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।