বড়াইগ্রামে কুল বড়ই চাষে লিটন ও জুয়েলের যুগান্তকারী সাফল্য
মোঃ আলমগীর কবির বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি নাটোর:
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ভরতপুর গ্রামে আধুনিক ও পরিকল্পিত কুল (বড়ই) চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন দুই তরুণ উদ্যোক্তা— মোঃ লিটন আহমদ ও প্রফেসর মোঃ উজ্জ্বল। নিজেদের শ্রম, মেধা ও দূরদর্শী পরিকল্পনার মাধ্যমে গড়ে তোলা তাদের এই বড়ই বাগান এখন শুধু লাভের ক্ষেত্র নয়, বরং এলাকার মানুষের কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম।
জানা গেছে, মোঃ লিটন আহমদ (পিতা: আহমদ আলী মাওলানা) এবং প্রফেসর মোঃ উজ্জ্বল (পিতা: আবুল কালাম আজাদ) যৌথভাবে বড়াইগ্রাম উপজেলার ভরতপুর গ্রামে একটি আধুনিক কুল বড়ই বাগান গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে প্রায় ৮ বিঘা জমিতে তারা দুইটি উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের বড়ই চাষ করছেন। এর মধ্যে একটি হলো ভারত সুন্দরী এবং অপরটি বল সুন্দরী— যা স্বাদ, আকৃতি ও বাজারমূল্যের দিক থেকে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
বাগান থেকে উৎপাদিত বড়ই তারা সরাসরি বাজারে সরবরাহ করছেন। চলতি মৌসুমে প্রতি মণ বড়ই ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি লাভজনক একটি কৃষি উদ্যোগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সঠিক পরিচর্যা, সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, আধুনিক চাষপদ্ধতি এবং বাজারের চাহিদা বুঝে উৎপাদন করাই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
এই বড়ই বাগান ঘিরে তৈরি হয়েছে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ। বাগান পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ, বাছাই ও পরিবহন কাজে নিয়মিতভাবে এলাকার একাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। ফলে শুধু উদ্যোক্তারা নয়, উপকৃত হচ্ছেন আশপাশের বেশ কয়েকটি পরিবারের মানুষও। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাগানের সার্বিক সৌন্দর্য এলাকাবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। সারি সারি সবুজ বড়ই গাছ, ডালে ডালে ঝুলে থাকা বড় আকৃতির চকচকে ফল, আর পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত পরিবেশ— সব মিলিয়ে বাগানটি যেন এক টুকরো সবুজ স্বপ্ন। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ার পাশাপাশি বড়ইগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু, রসালো ও খেতে মচমচে, যা ক্রেতাদের কাছে বাড়তি চাহিদা তৈরি করেছে। অনেক ক্রেতা দূরদূরান্ত থেকে সরাসরি বাগানে এসে বড়ই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
মানুষের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারে নিয়মিত বড়ই সরবরাহ করায় ব্যবসায়ীরাও সন্তুষ্ট। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর উপর নির্ভরতা কমে সরাসরি কৃষক ও ভোক্তা— উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, ভবিষ্যতে তারা এই বাগান আরও সম্প্রসারণ করতে চান এবং নতুন নতুন জাতের বড়ই চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও যেন পরিকল্পিতভাবে বড়ই চাষে আগ্রহী হন— সে লক্ষ্যেও তারা পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে আগ্রহী।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লিটন ও উজ্জ্বলের এই সফল উদ্যোগ বড়াইগ্রামসহ নাটোর জেলার কৃষকদের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও আন্তরিকতা থাকলে কৃষিই যে হতে পারে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার— তার বাস্তব উদাহরণ এই কুল বড়ই বাগান।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬