দাগনভূঞায় মধ্যরাতে কৃষি জমির মাটি কাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, যুবকের কারাদণ্ড ও জরিমানা
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
দুটি স্কেভেটর ধ্বংস, অথচ ফেনী সদর উপজেলা ৯ নং লেমুয়া ইউনিয়ন কেরনিয়ায় প্রকাশ্যে মাটি কাটার মহোৎসব চললেও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মধ্যরাতে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটতে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের হাত থেকে রক্ষা পাননি এক যুবক।
অভিযানে তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের আওতায় অবৈধ কাজে ব্যবহৃত দুটি স্কেভেটর ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে দাগনভূঞা উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে দেখা যায়, কৃষি জমির উর্বর টপসয়েল কেটে তা অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে এক যুবককে আটক করে তাৎক্ষণিক বিচার শেষে তাকে নির্দিষ্ট মেয়াদের কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত দুটি স্কেভেটর ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এই কঠোর অভিযানের পরপরই উঠে এসেছে আরেকটি লেমুয়া ইউনিয়ন কেরনিয়া কৃষি জমির মাটি কাটাতে কেন প্রশাসন নিরব ভুমিকা পাল করছেন। দাগনভূঞায় মধ্যরাতে গোপনে মাটি কাটার ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পাশ্ববর্তী ফেনী সদর উপজেলায় লেমুয়ায় দিনের পর দিন প্রকাশ্যে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার মহোৎসব চললেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে না উপজেলা প্রশাসনকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লেমুয়া কেরনিয়া কৃষি জমির মাঠে বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি কাটা হলেও কোনো অভিযান বা দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেই। এতে করে একদিকে যেমন কৃষি জমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, আইনের প্রয়োগ যদি এক উপজেলায় কঠোর হয় আর অন্য উপজেলায় শিথিল থাকে, তাহলে তা আইনের শাসন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তারা অবিলম্বে লেমুয়া ইউনিয়ন কৃষি জমির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী আশাবাদী, দ্রুতই প্রশাসন এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬