নিজস্ব প্রতিবেদন
জানুয়ারি ২০০৭-এ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া, তার পরিবার ও পার্টি বিএনপির ওপর যে বিপর্যয় নেমে আসে তার ধারাবাহিকতা অব্যাহতভাবে চলেছে।
১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি একটি সাতদলীয় জোট গঠন করে এবং জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম শুরু করে। খালেদা জিয়া ৯ বছরব্যাপী আন্দোলনে এরশাদের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক সরকারের সাথে আপস করেননি। অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতা করলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি কোনো সমঝোতায় যায়নি। তাই তখন তার নাম হয় আপসহীন নেত্রী। খালেদা জিয়া তার নীতিতে অবিচল থাকেন।
এরশাদ সরকার তখন বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞামূলক আইন প্রয়োগ করে খালেদা জিয়ার গতিবিধি সীমাবদ্ধ রাখে। এতে খালেদা জিয়া দমে যাননি। এরশাদ সরকার উৎখাত আন্দোলনে সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে যেতে থাকেন। অপর দিকে আওয়ামী লীগসহ অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় জেনারেল এরশাদ তার শাসনকে একটি বেসামরিক ও গণতান্ত্রিক চেহারা দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। এরশাদ বিভিন্ন নির্বাচনের আয়োজন করেন। কিন্তু তার শাসনামলে সব নির্বাচন খালেদা বয়কট করেন। এরশাদের ৯ বছরের শাসনামলে খালেদা জিয়া তিনবার গ্রেফতার হন। এতে এরশাদের লাভ হয় না।
খালেদা জিয়ার দাবির যথার্থতা ক্রমেই মানুষ বুঝতে থাকে। শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বুঝতে পারে এরশাদ সরকারের সাথে নৈকট্যের দরুন তাদের জনবিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। ফলে এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগও বাধ্য হয় এরশাদ হঠাও আন্দোলনে যোগ দিতে।দেশব্যাপী তুমুল বিক্ষোভের মুখে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০-এ জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে একটি নির্দলীয় সরকারের কাছে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালে সাহাবুদ্দীন সরকার একটি বহু প্রতীক্ষিত সংসদীয় নির্বাচনের আয়োজন করে। এ নির্বাচনে বৃহত্তম দলরূপে বিএনপি আবির্ভূত হয়। খালেদা জিয়া পাচটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং পাচটি আসনেই বিজয়ী হন। এই অসাধারণ সাফল্যের পুনরাবৃত্তি তিনি করেন পরবর্তী সব নির্বাচনেও। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা ফেব্রুয়ারি ১৯৯১-এর নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ঢাকার দু’টি আসনে পরাজিত হন। এভাবেই বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা যে সবার ওপরে তা বারবার প্রমাণিত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬