
হারাধন চক্রবর্তী, স্টাফ রিপোর্টার,মিরসরাই, চট্টগ্রাম
কমরআলী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৯ ব্যাচে কিছু বন্ধুরা মিলে গঠন করা হয়েছে “বন্ধু ফোরাম ‘৯৯ ” এর বার্ষিক সাধারন সভায় আয়োজন করা হয় গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে।এ আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা সম্মাননা প্রদান করে সীতাকুন্ডে অবস্থিত তোহা বোরকা হাউজ ও চৌধূরী কসমেটিক্স। এবং শীতের জ্যাকেট প্রদান করেন ফোরামে সদস্য প্রবাসী মো : নুরুজ্জামান রুমেল। সম্মাননা স্মারক গ্রহন করেন মো: জাহাঙ্গীর হোসেন,মো: আকরাম, মো: মন্নান খান,মো নুরুজ্জামান রুমেল, মো: জিয়াউল হক সুমন,মোঃ জামাল উদ্দীন,মো: ইলিয়াছ , মো: মামুন,মো: আব্দুল ওদুদ ভুঁইয়া, মো: সালাউদ্দিন জিয়া,মো : কবিরুল হাসান রুমি,মো: জিয়াউল হক জিয়া,মো: আনিসুল হুদা টুটুল, মো:আহম্মদ উল্ল্যাহ,এস এম রাশেদ নুর,মো: ফরিদ উদ্দিন, মো: কামরুজ্জামান কামরুল,অবনী মোহন নাথ,মো: সরোয়ার হোসেন,মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন, মো : সরোয়ার আলম রাসেল,মো ছালেক ইব্রাহীম, শ্যামল কান্তি নাথ।হারাধন চক্রবর্তী।পড়ালেখা শেষ করে অনেকেই চাকরি কিংবা ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যস্ত। কেউবা দূরপ্রবাসে। বন্ধুদের মধ্যে যোগাযোগ যখন বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে, তখন ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে এক ভিন্ন পথ ধরেন ওই ব্যাচেরই বন্ধুরা।এ মিলনমেলার বন্ধুরা একে অপরের সঙ্গে ছবি তোলা, সেল্ফি, আড্ডা, গল্প, নাচ, গানে মেতে উঠেন।বন্ধুত্বের একতা, সম্প্রীতি ও সফলতা’ সবার মধ্যে বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা সৃষ্টির পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য এ ফোরাম কাজ করে। এছাড়া প্রয়োজনে সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য কিছু মানবতার কাজ করার চেষ্টা নিয়েও বন্ধুত্বের বন্ধনটা সুদৃঢ় করতে আরেকটি সংগঠন পরিচালনা করে “৯৯ ব্যাচ ফাউন্ডেশন ” নামে।মিলনমেলায় সবার আগ্রহ ও আন্তরিকতাকে বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ফোরামে সভাপতি মো: আহম্মদ উল্ল্যাহ রাসেল।রাসেল জানান, বন্ধুরা একে অপরের থেকে যেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়ে যাই ও সবাই যেন বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারি সেই চিন্তা থেকেই ফোরামটি করেছিলাম।এছাড়া বিভিন্ন তথ্য ও সহযোগিতায় কাজ করা হয়েছে বন্ধুদের। আমাদের বন্ধুদের আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ ছিল। মিলনমেলার মধ্য দিয়ে একটি বড় পরিসরে আয়োজন করার জন্য বন্ধুদের মধ্যে যোগাযোগ আছে ও সবার আস্থাভাজন এমন বন্ধুদের একত্রিত করা হবে। বন্ধুত্বের একতা আর সম্প্রীতিটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।মিলনমেলায় এসে ভালো লাগার কথা জানান অনেকেই।তবে সুমন বলেন
এখানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেই চলে এসেছি। সরোয়ার আলম রাসেল বলেন বন্ধুদের আড্ডায় যুক্ত হতে পেরে বেশ খুশি ।মিলনমেলা আয়োজনে কাজ করা অবনী মোহন নাথ জানান, বন্ধুরা সবাই মিলে আড্ডা, গল্প, ছবি তোলা, খাওয়া-দাওয়া করেছি। এই যেন স্কুল জীবনেই ফিরে গিয়েছিলাম। বেশ ভালো সময় কেটেছে।ব্যক্তিস্বার্থ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার বর্তমান বাস্তবতায় নিজের মধ্যে বন্ধুত্ব আর ঐক্য চায় “বন্ধু ফোরাম ‘৯৯” এর শিক্ষার্থীরা। এতে শঙ্কটে বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানোসহ স্কুলে ও সমাজের মানুষের জন্য কাজ করতে চায় তারা।বিদ্যালয়ে ৯৯ ব্যাচের বন্ধুরা কেউ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক,পুলিশ,ডিজিএফআই,আর্মি, রাজনীতিবিদসহ নানা পেশায় দেশ ও বিদেশে কর্মরত। সবাইকে একত্রিত করে আরো বড় পরিসরে মিলন মেলার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।৯৯ ব্যাচের অন্যতম সদস্য মো: মন্নান খান বলেন,আমাদরে দুটো সংগঠন একটি সেবা মূলক সামাজিক মানবতার সেবায় কাজ করে ১। “৯৯ ব্যাচ ফাউন্ডেশন” ২। “বন্ধু ফোরাম ৯৯”আর্থিক সংগঠন যেটার আজ বার্ষক সাধারন সভা ও মিলন আয়োজন হয়েছে।এ ব্যাচের সবাই বন্ধু ফোরাম ৯৯ তে সদস্য হয় নি তবে দুই বছর পরে ও অনেকে সদস্য হবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে।সবার সুস্থতা কামনা করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলায়। সীতাকুন্ড মানেই একপাশে সাগর আর অন্যপাশে পাহাড়। সীতাকুন্ড বাজার থেকে গুলিয়াখালী সি বিচ এর দুরত্ব ৫ কিলোমিটার। স্থানীয়দের কাছে এই সৈকত “মুরাদপুর সী বিচ” নামে পরিচিত। গুলিখালীর অন্যতম বৈশিষ্ট হলো এখানকার পুরো সমুদ্র পাড় ঢেকে আছে গালিচার মতো সবুজ ঘাসে! সৈকতের তিনদিকে শোভা বর্ধন করছে ছোট ছোট ম্যানগ্রোভ বন। আর অন্যদিকে অসীম সমুদ্র। বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালার মধ্যে কেওড়া অন্যতম। ম্যানগ্রোভ বনের শ্বাসমূল ছড়িয়ে আছে সৈকত জুড়ে। তার মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে বড় ছোট অনেকগুলো খাল। জোয়ারের সময় খালগুলো পানিতে ভরে যায়। গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত কিছুটা কম পরিচিত হওয়ায় বেশিরভাগ সময়ই এখানে পর্যটক থাকেনা। তাই আপনি সমুদ্রের বাতাসের সাথে নিরবতা উপভোগ করতে পারবেন মন ভরে।