এম এ রাজ্জাক (সুমন) স্টাফ রিপোর্টার: (মুন্সিগঞ্জ)
নতুন বছরের শুরু থেকেই দেশের অন্যতম মেগা স্ট্রাকচার পদ্মা সেতু পারাপারে চালু হচ্ছে কঠোর নিয়ম। যানবাহনের অতিরিক্ত ওজনের কারণে সেতুর কাঠামোগত ক্ষতি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে ২৭ টনের বেশি ওজনের কোনো পণ্যবাহী যানবাহন আর পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে পারবে না।
সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা—উভয় প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছে ‘ইলেকট্রনিক সেন্সর নিয়ন্ত্রিত ওয়েট স্কেল’। প্রায় ৬৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো এই অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে গাড়ি চলন্ত অবস্থাতেই তার ওজন পরিমাপ করা সম্ভব হবে। ফলে ওজন মাপার জন্য কোনো গাড়িকে আলাদাভাবে দাঁড়াতে হবে না, যা যানজট নিরসনেও ভূমিকা রাখবে।সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে আসা প্রতিটি পণ্যবাহী যানকে টোল প্লাজার আগে নির্ধারিত তিনটি লেনের মাধ্যমে ওয়েট স্কেলে প্রবেশ করতে হবে। স্বয়ংক্রিয় সেন্সরে মাপা ওজনে যদি দেখা যায় গাড়ির ওজন ২৭ টনের মধ্যে, তবে সেটি টোল পরিশোধ করে ‘গ্রিন জোন’ দিয়ে সরাসরি সেতুতে উঠতে পারবে।
বিপত্তি ঘটবে ২৭ টনের বেশি হলে। অতিরিক্ত ওজনের গাড়িগুলোকে স্বয়ংক্রিয় নির্দেশনায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে ‘রেড জোন’ বা স্টক ইয়ার্ডে। সেখানে গাড়িটি সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা অবস্থানের সুযোগ পাবে। এই সময়ের মধ্যে পণ্যের ওজন কমিয়ে নির্ধারিত সীমার নিচে আনলে পুনরায় ওয়েট স্কেলে মাপা হবে এবং কেবল তখনই সেতু পার হওয়ার অনুমতি মিলবে। অন্যথায় অতিরিক্ত ওজন নিয়ে সেতু পারাপারের কোনো সুযোগই থাকছে না।উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সর্বপ্রথম এই সেতুর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয় এবং ২০০১ সালের ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়া প্রান্তে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে জাইকার সুপারিশ এবং ২০০৯ সালে নকশা চূড়ান্তকরণের মধ্য দিয়ে আজকের এই স্বপ্নের সেতু বাস্তবে রূপ নেয়। উদ্বোধনের পর থেকে এতদিন ওজন মাপার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা না থাকলেও, নতুন বছরে এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও আয়ুষ্কাল বৃদ্ধিতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬