
রিপন সরকার বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৪, ৫ এবং ৬ নম্বর আসনে মোট ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।আজকের কার্যক্রম:শনিবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় ধাপের যাচাই-বাছাই শুরু হয়। আজ মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের ৩৬ জন প্রার্থীর নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়।বাতিলের কারণ:
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে মূলত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় গরমিল পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের দেওয়া তথ্যের সাথে নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজের মিল নেই, আবার কারো ক্ষেত্রে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতা ধরা পড়েছে। তবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ প্রধান দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রায় সবারই বৈধ ঘোষিত হয়েছে।গতকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ১, ২ ও ৩ নম্বর আসনের বাছাইকালে ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। আজ আরও ৭ জনের নাম যুক্ত হওয়ায় দুই দিনে জেলায় মোট ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষিত হলো। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান সাংবাদিকদের জানান, “যাচাই-বাছাইয়ে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা চাইলে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিল শুনানি শেষে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।এদিকে, প্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার খবরে আদালত পাড়া ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ও উল্লাস করতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।