
র্যাব সেজে প্রতারণা: শীতবস্ত্র বিতরণের নামে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের প্রধান গ্রেপ্তার
অপু দাস
রাজশাহী ব্যুরো প্রধান রাজশাহী।
রাষ্ট্রীয় বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পরিচয় ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. মারুফ হোসেন (২৯)। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোপালপুর বাইপাস রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, ছিনতাই ও প্রতারণাসহ নানা ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বাহিনীটি।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. ইসমাইল চৌধুরী রাসেল (৩৭), পিতা—আমিনুল হক চৌধুরী, সাং—বলাইখা, থানা—রূপগঞ্জ, জেলা—নারায়ণগঞ্জ। তিনি একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে একটি অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর থেকে তার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান খানের কাছে ফোন আসে।
ফোনদাতা নিজেকে র্যাবের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানায় যে, র্যাবের উদ্যোগে শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় একটি বাহিনীর নাম ব্যবহার করায় এবং বিষয়টি মানবিক উদ্যোগ বলে মনে হওয়ায় চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান খান প্রতারকের দেওয়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা পাঠান।
অর্থ পাঠানোর পর উক্ত নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ তৈরি হলে বিষয়টি যাচাই করে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন ভুক্তভোগীরা।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় মো. ইসমাইল চৌধুরী রাসেল বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে দায়ের হয়। মামলার নম্বর ০৫ এবং এতে দণ্ডবিধির ১৭০, ৪২০, ৪০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলা দায়েরের পর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে র্যাব-৫, সদর কোম্পানি, রাজশাহী এবং র্যাব-১১, সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জের সমন্বয়ে একটি যৌথ অপারেশন দল গঠন করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী শনিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানাধীন গোপালপুর বাইপাস রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে প্রতারণা চক্রের মূলহোতা মো. মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মারুফ হোসেনের পিতা রফিকুল ইসলাম। তার বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষ্ণবাটি, বোগদামারী এলাকায়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি র্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সে একাধিক ব্যক্তিকে একই কৌশলে প্রতারণার চেষ্টা করেছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানায় জিডি মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাবের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।