
আবু বকর সিদ্দিক মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
একসময় শীত এলেই বিক্রমপুর অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ত খেজুরের রসের মিষ্টি ঘ্রাণ।ভোরের কুয়াশায় গাছির হাঁক,কলস ভরা টাটকা রস আর রসালো পিঠার আয়োজন ছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য।কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ,গ্রাম ও আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণের নামে নির্বিচারে কাটা হয়েছে অসংখ্য খেজুর গাছ।কিন্তু কাটা গাছের বিপরীতে নতুন করে খেজুর গাছ রোপণের উদ্যোগ নেই বললেই চলে।এর ফলে মারাত্মকভাবে কমে গেছে খেজুরের রস সংগ্রহ।বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বহু গাছির পেশা।হারিয়ে যাচ্ছে শীতকালীন পিঠা-পুলির ঐতিহ্য।খেজুর গাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়,এটি গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও অর্থনীতির অংশ।খেজুরের রস দিয়ে তৈরি হতো রসের পাটিসাপটা, দুধচিতই,ভাপা পিঠা,তেলপিঠা,চন্দ্রপুলি,ক্ষীর ও পায়েস।এই খাবারগুলো ছিল সামাজিকতা ও পারিবারিক মিলনের প্রতীক।আজকের প্রজন্মের অনেকেই এসব নাম পর্যন্ত জানে না।এদিকে খেজুরের রসের সংকটে বাজারে বেড়েছে ভেজাল গুড়ের দাপট।চিনি,কেমিক্যাল ও রং মিশিয়ে তৈরি করা ভেজাল গুড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।একজন গাছি বলেন,গাছই যদি না থাকে, আসল গুড় আসবে কোথা থেকে?বিশেষজ্ঞরা বলছেন,জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে খেজুর গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।এটি পরিবেশবান্ধব,দীর্ঘদিন ফলন দেয় এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।স্থানীয়দের দাবি,সড়ক নির্মাণে খেজুর গাছ কাটলে বাধ্যতামূলকভাবে নতুন গাছ রোপণ করতে হবে।ভেজাল গুড় উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।তা না হলে খেজুরের রস ও রসালো পিঠা অচিরেই স্মৃতির পাতায় হারিয়ে যাবে।