
নিজস্ব প্রতিবেদক
শীতের চিরাচরিত ঐতিহ্য কাঁচা খেজুর রস এখন অনলাইনের হাত ধরে পৌঁছে যাচ্ছে শহুরে মানুষের দোরগোড়ায়। তবে ‘খাঁটি’ ও ‘ফ্রেশ’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রস বিক্রির এই রমরমা কারবার নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই কাঁচা রস পানের মাধ্যমে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকট, যার মৃত্যুহার প্রায় ৮০ শতাংশ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেসবুকের শত শত পেজ এবং বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট (যেমন: খাঁটি বিডি, জারিফ ফুডস, বিখ্যাত ৬৪, খেজুরতলা প্রভৃতি) ঢাকা, যশোর, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাঁচা রস সরবরাহ করছে। বিজ্ঞাপনে দাবি করা হচ্ছে, গাছে জাল ব্যবহার করে রস সংগ্রহ করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জালের ব্যবহার নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না।
২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ৩৪৩ জনের মধ্যে ৭১ শতাংশেরই মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালে আক্রান্ত পাঁচজনের সবাই মারা গেছেন। এই ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা বা চিকিৎসা নেই।
ফ্রিজিংয়েও নিরাপদ নয়: অনলাইন বিক্রেতারা ফ্রিজে রেখে রস সরবরাহ করলেও তাতে ভাইরাস মরে না। বরং শীতল তাপমাত্রায় নিপাহ ভাইরাস আরও দীর্ঘসময় সক্রিয় থাকতে পারে। পরীক্ষার অভাব: কোন হাঁড়ির রসে ভাইরাস আছে আর কোনটিতে নেই, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝার কোনো উপায় নেই।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “কাঁচা রস পান করা আর নোংরা হাতে ভাত খাওয়া একই কথা। আক্রান্তদের মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশি। খেজুরের রস ফুটিয়ে পান করা অথবা পিঠা ও গুড় তৈরিতে ব্যবহার করাই একমাত্র নিরাপদ উপায়।”
সরকারি ও গবেষণা সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও অনলাইন ব্যবসায়ীরা তা উপেক্ষা করে অবাধে বিপণন চালিয়ে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনতিবিলম্বে এই ডিজিটাল বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। পরিশেষে: ঐতিহ্য উপভোগ করুন নিরাপদভাবে। মনে রাখবেন, এক গ্লাস কাঁচা রস তৃপ্তি দিতে পারে, কিন্তু তা যেন জীবনের শেষ পানীয় না হয়।