
ঠাকুরগাঁওয়ে ফুলের সুগন্ধে স্বপ্ন বুনছেন আজহারুল শখ থেকে সাফল্য
বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
শখ যখন পেশায় রূপ নেয়, তখন সাফল্য ধরা দেয় নিজ থেকেই। এমনটাই প্রমাণ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া মাটিগাড়া এলাকার অদম্য উদ্যোক্তা আজহারুল ইসলাম। তার গড়ে তোলা মিশ্র ফুলের বাগান (আর্নিকা নার্সারি) এখন এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাহারি রঙের দেশি-বিদেশি ফুল বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও কৃষি প্রেমীরা। সরেজমিনে (আর্নিকা নার্সারি) বাগানটিতে গিয়ে দেখা যায়, একশত শতক জমি বিস্তৃত সবুজের মাঝে লাল, হলুদ, সাদা, গোলাপি আর বেগুনি রঙের মিতালি। বাগানে দোল খাচ্ছে হাইব্রিড গাঁদা, ক্যালেন্ডুলা, চন্দ্রমল্লিকা, স্টার ও গোলাপের ৫টি ভিন্ন জাত। এছাড়াও রয়েছে রজনীগন্ধা, ডান্স, নয়নতারা, সূর্যমুখী, সেলফিলা, জারবেরা, পত্তলিকা, থাই মল্লিকা ও অর্কিডের মতো দামি সব ফুলের সমারোহ। তবে কেবল ফুলেই সীমাবদ্ধ নয়। বাগানের অন্য অংশে রয়েছে বারোমাসি আম, সিডলেস লেবু, কাঁঠাল, মিষ্টি জলপাইসহ বিভিন্ন ঔষধি গাছ।
আজহারুল ইসলাম বলেন, শৈশব থেকেই গাছের প্রতি আমার আলাদা টান ছিল। শুরুতে শখের বশে মাত্র কয়েক শতাংশ জমিতে বাগান শুরু করি। আজ সেটি দুই একর জুড়ে বিস্তৃত। এখন বাগান থেকে নিয়মিত ফুল ও ফলের চারা বিক্রি করে মাসে বেশ ভালো অংকের আয় হচ্ছে। আমার এখানে ২-৩ জন স্থানীয় শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে, এটা দেখে বেশি আনন্দ পাই। পথটি সবসময় সহজ ছিল না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া আর উন্নত বীজের অভাবে মাঝে মাঝে বেগ পেতে হয়েছে। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শ আমাকে সাহস জুগিয়েছে। ভবিষ্যতে এই বাগানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ নার্সারি ও কৃষি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে আমার।
ঠাকুরগাঁও সদঁর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব নাসিরুল আলম বলেন, আজহারুল ইসলাম একজন পরিশ্রমী উদ্যোক্তা। আমরা নিয়মিত তাকে কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছি। ফুলের চাষ এখন বেশ লাভজনক। আজহারুলকে দেখে অনেক বেকার যুবক উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আমরা আশা করছি তার এই মিশ্র বাগান গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। আগ্রহী অন্য চাষিদেরও আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বর্তমানে আজহারুলের বাগানে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির ফুলের চারা রয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আজহারুলের এই কৃষি পর্যটন কেন্দ্র হওয়ার স্বপ্ন দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে।