
স্বাস্থ্য ডেস্ক
শীতের প্রকোপ, ধুলাবালি কিংবা অ্যালার্জি—নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যায় ভোগেন না এমন মানুষ কমই আছে। ঠিকমতো শ্বাস নিতে না পারা বা রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা আপনার দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরোয়া কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিক কৌশলে দ্রুতই এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। নাক খুলে দিয়ে আরাম পেতে মেনে চলতে পারেন এই ৮টি পরামর্শ:
১. স্যালাইন দিয়ে নাক পরিষ্কার
নাকের ভেতরে জমে থাকা মিউকাস ও ধুলাবালি দূর করতে স্যালাইন পানি বা নেটি পট ব্যবহার করুন। এটি দ্রুত নাক পরিষ্কার করে। তবে খেয়াল রাখবেন, পানি যেন অবশ্যই ফুটানো ঠান্ডা বা ডিস্টিল্ড ওয়াটার হয়।
২. গরম পানির ভাপ (Steam)
নাক বন্ধের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো গরম পানির ভাপ নেওয়া। এটি নাকের ভেতরের মিউকাসকে নরম করে দেয়। এছাড়া গরম পানিতে গোসল করলেও অনেক সময় আরাম পাওয়া যায়।
৩. পর্যাপ্ত তরল পান করুন
শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মিউকাস পাতলা হয় এবং সহজে বের হয়ে আসে। দিনে প্রচুর পানি পানের পাশাপাশি আদা চা বা গরম স্যুপ পান করলে দ্রুত সুস্থতা পাওয়া যায়।
৪. ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু রাখা
চিৎ হয়ে শুলে নাক বেশি বন্ধ মনে হতে পারে। তাই রাতে ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত একটি বালিশ ব্যবহার করে মাথা একটু উঁচুতে রাখুন। এতে শ্বাস নেওয়া সহজ হবে।
৫. হিউমিডিফায়ার ব্যবহার
শুষ্ক আবহাওয়ায় নাকের প্রদাহ বাড়ে। ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা ধরে রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন, যা নাকের ভেতরে অস্বস্তি কমাবে।
৬. ডিকনজেস্ট্যান্টের সতর্ক ব্যবহার
নাকের স্প্রে বা ড্রপ দ্রুত আরাম দিলেও এটি ৩-৫ দিনের বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয়। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে হৃদরোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করবেন না।
৭. হালকা ব্যায়াম
নাক বন্ধ অবস্থায় সামান্য হাঁটাচলা বা স্ট্রেচিং করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা অনেক সময় প্রাকৃতিকভাবেই নাক খুলতে সাহায্য করে।
৮. গরম ও ঠান্ডা কম্প্রেস
নাকের দুপাশে বা কপালে গরম বা ঠান্ডা ভাপ দিলে সাইনাসের ওপর চাপ কমে এবং নাক বন্ধের অনুভূতি দূর হয়। সতর্কবার্তা: ঘরোয়া উপায়ে যদি দীর্ঘসময় পরও নাক বন্ধ থাকার সমস্যার সমাধান না হয় বা ব্যথার মতো জটিলতা দেখা দেয়, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।