
স্বাস্থ্য ডেস্ক
লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যান্সার শিশুদের মধ্যে দেখা দেওয়া অন্যতম প্রধান ক্যান্সার। আমাদের হাড়ের মজ্জায় (ম্যারো) যখন অস্বাভাবিক সাদা রক্তকোষ তৈরি হয় এবং সেগুলো স্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়, তখনই লিউকেমিয়া দেখা দেয়। প্রতি বছর বিশ্বে কয়েক লক্ষ শিশু এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার হার এখন অনেক বেশি।
কেন হয় লিউকেমিয়া?
লিউকেমিয়ার সঠিক কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখনও অজানা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাড়ের মজ্জায় অসম্পূর্ণ বা ‘অম্যাচিউর’ সাদা রক্তকোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। এই কোষগুলো রক্তে অক্সিজেন বহনকারী লোহিত রক্তকণিকা এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী প্লেটলেটের উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
শিশুদের লিউকেমিয়ার সাধারণ লক্ষণসমূহ
অনেক সময় লিউকেমিয়ার লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হতে পারে। তবে নিচের লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা করা ঠিক নয়:
সহজে রক্তপাত ও কালচে দাগ: লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুর রক্তে প্লেটলেট কমে যায়। ফলে সামান্য আঘাতেই শরীরে নীলচে বা লালচে দাগ (পেটিচিয়া) পড়ে। এছাড়া প্রায়ই নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত বের হতে পারে।
পেট ব্যথা ও অরুচি: ক্যান্সার কোষ লিভার, কিডনি বা স্প্লিনে (প্লীহা) জমা হয়ে সেগুলো ফুলিয়ে দেয়। ফলে শিশুর পেট ব্যথা হয়, ক্ষুধা কমে যায় এবং দ্রুত ওজন হ্রাস পায়।
বারবার সংক্রমণ ও জ্বর: অসুস্থ সাদা রক্তকোষ শরীরকে জীবাণু থেকে রক্ষা করতে পারে না। ফলে শিশু বারবার ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে ভোগে এবং সহজে ভালো হয় না।
শ্বাসকষ্ট ও কাশি: গলার নিচে অবস্থিত থাইমাস গ্রন্থি ফুলে গেলে বা ফুসফুসে লিম্ফ নোড বড় হয়ে গেলে শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে এবং অনবরত কাশি হতে পারে।
হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা: হাড়ের মজ্জার ভেতর কোষের অস্বাভাবিক চাপের কারণে শিশু হাত-পা বা পিঠে তীব্র ব্যথা অনুভব করে। ব্যথার কারণে অনেক শিশু হাঁটতে সমস্যা অনুভব করে।
রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া: লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ায় শিশু সবসময় ক্লান্ত থাকে, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং দ্রুত হাঁপিয়ে ওঠে।
লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া: ঘাড়, বগল বা কলারবোনের উপরের অংশ ফুলে যাওয়া লিউকেমিয়ার একটি সাধারণ লক্ষণ।
আশার কথা ও করণীয়
লিউকেমিয়ার নাম শুনলেই অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আজকের দিনে আক্রান্ত শিশুদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু কয়েকটি লক্ষণ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় করা জরুরি।
মনে রাখবেন, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং সঠিক চিকিৎসাই শিশুকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার একমাত্র চাবিকাঠি।