
স্বাস্থ্য ডেস্ক
শিশুদের ঘাম হওয়া খুব স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হলেও, অনেক সময় তা অভিভাবকদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে শিশু যদি বারবার বা অকারণে ঘামতে থাকে, তবে তা সবসময় অবহেলার বিষয় নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সব সময় ভয়াবহ রোগের লক্ষণ না হলেও কিছু ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরের জটিল সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘাম কেন হয়?
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ঘাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ঘর্মগ্রন্থি সম্পূর্ণ বিকশিত নয়। ইংল্যান্ডের চিকিৎসক ড. সারমেদ মেজেরে জানিয়েছেন, ঘরের তাপমাত্রা বেশি হলে বা শিশুকে অতিরিক্ত কাপড় পরিয়ে রাখলে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আরামদায়ক পরিবেশে থেকেও যদি শিশু খাওয়ার সময় বা ঘুমের মধ্যে ঘামে, তবে তা বিশেষ কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।
যেসব কারণে শিশু অতিরিক্ত ঘামতে পারে:
১. থাইরয়েডের সমস্যা: শরীরে থাইরয়েড হরমোন বেশি উৎপন্ন হলে শিশু অতিরিক্ত ঘামতে পারে।
২. হাইপারহাইড্রোসিস: এটি এমন একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে ঘর্মগ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে। এর ফলে হাতের তালু, কপাল বা বগলে অস্বাভাবিক ঘাম দেখা দেয়।
৩. জন্মগত হৃদরোগ: জন্মগতভাবে হার্টে কোনো সমস্যা থাকলে তার অন্যতম একটি লক্ষণ হতে পারে অতিরিক্ত ঘাম।
৪. সিস্টিক ফাইব্রোসিস: এটি একটি জিনগত রোগ, যার প্রভাবে শিশুর শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম নির্গত হয়।
৫. শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ: শিশুর শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসে কোনো সংক্রমণ থাকলেও এমনটি হতে পারে।
অভিভাবকদের করণীয়:
অকারণে ঘামলে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন: শিশুকে সব সময় আরামদায়ক ও ঋতুভেদে পাতলা সুতির কাপড় পরান।
ঘর যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলযোগ্য (Ventilated) থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। অতিরিক্ত ঘামলে শিশু পানিশূন্যতায় ভুগতে পারে, তাই তাকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দিন।
শিশুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি দেখেন শিশু আরামদায়ক পরিবেশে থাকার পরেও নিয়মিত ঘামছে, ঘামের সাথে ওজন কমছে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে—তবে দেরি না করে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।