শ্যামনগর কৈখালীতে চিংড়ি শিল্প রক্ষার দাবিতে চাষীদের মানববন্ধন
মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফঃ,স্টাফ রিপোর্টার (সাতক্ষীরা) :
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালীতে বাগদা চিংড়ি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় নিদয়া বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন পরানপুর এলাকায় শত শত মৎস্যচাষী, ঘের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্যচাষী ইদ্রিস আলী। তিনি জানান, তার ২৬০ বিঘা মৎস্য ঘেরের পানি সরবরাহ হয় কে এস চিংড়ি প্রকল্পের আওতাধীন “মিনি ফ্লাশিং সুইস গেট” এর মাধ্যমে। বাগদা চাষের জন্য তিনি ব্যাংক থেকে ৭০ লাখ টাকা লোন নিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, “লবণাক্ত পানি প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আমাদের জীবিকা বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।আরেক মৎস্যচাষী আব্দুল হামিদ জানান, পরানপুর এলাকায় তার ৮৮ বিঘা ঘের রয়েছে। বাগদা চাষের উপযোগী পরিবেশ থাকায় তিনি ইতোমধ্যে ৩ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “মিনি ফ্লাশিং গেট দিয়ে লবণ পানি প্রবেশ বন্ধ হলে চাষীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।” তিনি প্রশাসন ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, চিংড়ি চাষ বাঁচাও, উপকূলের মানুষ বাঁচাও“শ্যামনগরে লবণাক্ত পানিতে চিংড়িই জীবিকা”চিংড়ি চাষ বন্ধ নয়, পরিবেশবান্ধব চাষ চাই।”এ সময় ঘের মালিক ও মৎস্যচাষী ইব্রাহিম খলিল, সোহাগ, ছবুর মোড়ল, অসীম মেম্বার, রিয়াজুল, আয়জুল, বাবু মোড়ল, দীপঙ্কর, হিমাংশু, মুজিবর, ওমর, কেরামত আলী, কাবিল, ফজলু, মাকছুদ, হাফিজুর, জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম, হাবিল, সহ শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় চাষীরা জানান, সাধারণত কালিন্দী নদী থেকে লবণাক্ত পানি ঘেরে প্রবেশ করানো হয়। এরপর ঘের প্রস্তুত করে বাগদার রেণু ছাড়া হয়, দুই মাস পর সেগুলো বাজারজাতের উপযোগী হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় এবং সরকারও রাজস্ব আয় করে। চাষীরা মনে করেন, সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ি শিল্প টিকিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ ও সরকারি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬