
অপু দাস,রাজশাহী ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অপরাধ দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, মাদক পাচার, ভেজাল পণ্য, ছিনতাই, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে র্যাব নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে র্যাব-৫, রাজশাহী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৫ রাজশাহীর সদর কোম্পানির একটি চৌকস অপারেশন দল ৯ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানাধীন বানেশ্বর বাজার এলাকার চৈতী মার্কেট সংলগ্ন নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি শুরু করে।
তল্লাশিকালে নাটোর থেকে রাজশাহীগামী একটি কার্গো ট্রাক (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: যশোর-ট-১১-৪৭০৫) সন্দেহজনক হওয়ায় থামানো হয়। পরবর্তীতে ট্রাকটি তল্লাশি করে লবণ পরিবহনের আড়ালে কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ১২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।এসময় ট্রাক থেকে আরও ১৩ হাজার কেজি লবণ এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। অভিযানে ট্রাকচালক মোঃ হাসানুর রহমান (৩৫), পিতা- মৃত মিজানুর রহমান, মাতা- মোছাঃ রাশিদা খাতুন, সাং- মাঝেরপাড়া, থানা- কলারোয়া, জেলা- সাতক্ষীরা’কে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি স্বীকার করে যে, উদ্ধারকৃত গাঁজা সে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে রেখেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সে বিভিন্ন উপায়ে অবৈধভাবে গাঁজা সংগ্রহ করে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রয় করে আসছিল।র্যাব সূত্রে জানা যায়, এই মাদক পাচারের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত চলছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।ঘটনার পর গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য, ট্রাক ও অন্যান্য আলামত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।র্যাব-৫ কর্তৃপক্ষ জানায়, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।