
অপু দাস,রাজশাহী ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
পায়ুপথে অভিনব ও গোপন কৌশলে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা পরিবহণের সময় এক আন্তঃজেলা মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৫ এর সিপিএসসি ইউনিট। অভিযানে ধৃত ব্যক্তির নাম মো. শাহানুর রহমান শাহিন (৩২)। তার কাছ থেকে ৯৮৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।র্যাব সূত্র জানায়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ জনগণের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৫, সিপিএসসি জানতে পারে যে, একজন মাদক ব্যবসায়ী ট্রেনযোগে অবৈধ মাদকদ্রব্য বহন করে রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার দিকে যাত্রা করেছে। এমন তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং মাদক কারবারিকে আটক করতে র্যাবের গোয়েন্দা দল বাঘা থানাধীন আড়ানী রেলস্টেশনসহ আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করে।ইংরেজি ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে র্যাবের একটি আভিযানিক দল রাজশাহীর বাঘা থানাধীন আড়ানী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের সামনে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার পায়ুপথের ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় মোট ৯৮৮ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারকৃত মো. শাহানুর রহমান শাহিন নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া থানার পানকা গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি মো. রমজান আলীর ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা মাদক চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের পেশার আড়ালে ট্রেন ও বাস ব্যবহার করে কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী অজ্ঞাত স্থান থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা ও ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদক সংগ্রহ করতেন। পরে এসব মাদক রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় খুচরা ও পাইকারি দরে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের কাছে সরবরাহ করে আসছিলেন।র্যাব জানায়, প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে যে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে মাদক পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে এবং তাদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ধৃত আসামির বিরুদ্ধে রাজশাহীর বাঘা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব-৫ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা দূর করতে তাদের মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।