
মোঃ হারুন অর রশিদ, ভোলা
ভোলায় মেঘনা নদীতে পড়ে যাওয়া এক কন্যা শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬’টায় ভোলা সদর থানাধীন ইলিশা জংশন ফেরিঘাটসংলগ্ন পুরাতন পল্টনের পাশে মেঘনা নদীর তীরে খেলাধুলা করার সময় অসাবধানতাবশত শিশুটি নদীতে পড়ে যায়।
ঘটনার সময় কোস্ট গার্ড স্টেশন ইলিশার একটি টহল দল ওই এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। শিশুটি নদীতে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি টহল দলের নজরে আসামাত্রই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কোস্ট গার্ড সদস্যদের দ্রুততা ও সাহসিকতায় অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উদ্ধারের পরপরই শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। শিশুটি সুস্থ থাকায় পরে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে। সন্তানের প্রাণ ফিরে পাওয়ায় পরিবার ও স্বজনরা কোস্ট গার্ডের সাহসী কর্মী এবং তাদের দ্রুততার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদীতে শিশুটি পড়ে যাওয়ার পর মুহূর্তে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি এবং তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন কোস্ট গার্ড সদস্যরা চরম সতর্কতা এবং পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেন, যা এলাকার মানুষদের জন্য এক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন এর মিডিয়া কর্মকর্তা, লেফটেন্যান্ট বিএন মোঃ আবুল কাশেম, এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “উপকূলীয় এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে মানুষের জানমাল রক্ষায় আমরা সর্বদা সতর্ক। আমাদের উদ্দেশ্য, যে কোনো বিপদ মুহূর্তেই দ্রুততার সঙ্গে সাড়া দেওয়া এবং জীবন রক্ষা করা। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ধার ও নিরাপত্তামূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযান কেবল শিশুদের জন্য নয়, বরং উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, স্থানীয় মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা নদী ও পানি সংলগ্ন এলাকায় নিরাপদ আচরণ করেন।উদ্ধারকৃত শিশুর পরিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, কোস্ট গার্ডের দ্রুততার জন্য আমাদের সন্তান আজ জীবিত আছে। তাদের সাহসিকতা এবং পেশাদারিত্ব সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা সকলেই কৃতজ্ঞ।
স্থানীয়রা এই ঘটনা নিয়ে বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও প্রমাণ করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও কোস্ট গার্ড এর মতো তৎপর দল এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকবে। এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড শুধুমাত্র সীমান্তে নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরে, নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষের জীবন রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।