1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
অনুকূল আবহাওয়ায় রাজশাহীর আমবাগানে আগাম মুকুল, চাষিদের মধ্যে আশা জাগাচ্ছে - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সোমা মোখলেস মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষা সফর পালিত ২০২৬ পত্নীতলার ৩নং দিবর ইউনিয়নে বিএনপির একমত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী মাজেদুল ইসলামের গণসংযোগে জনস্রোত মাদারীপুরে ট্রাক উল্টে খাদে, দুই মৌচাষি নিহত পাংশায় অবৈধ বিএসবি ইটভাটার চিমনি ভেঙে দিল প্রশাসন, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা সুন্দরবনে ঝিনুক ও শামুক পাচারকালে ট্রাকসহ ৭ হাজার ৫০০ কেজি মাল জব্দ যশোর-১ শার্শা উপজেলায় বিএনপির তিন জন নেতা জামায়াত ইসলামীতে যোগদান নীলফামারী ডিমলায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের আগমন উপলক্ষে স্বাগত মিছিল মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের গণজোয়ার-রসুনিয়ায় শেখ আব্দুল্লাহর পথসভা গাজীপুর ১ আসনের একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত জনসংযোগ

ভিডিও সংবাদ 👇👇

অনুকূল আবহাওয়ায় রাজশাহীর আমবাগানে আগাম মুকুল, চাষিদের মধ্যে আশা জাগাচ্ছে

অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার আমবাগানগুলোতে ইতোমধ্যেই আগাম মুকুল দেখা দিতে শুরু করেছে। যদিও পুরোপুরি মুকুলে ভরে উঠতে এখনো প্রায় দুই মাস সময় বাকি, তবু এই আগাম উপস্থিতি আমচাষিদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। চলতি মৌসুমে তুলনামূলকভাবে কম শীত, সীমিত কুয়াশা এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকায় এবছর আমের ফলন ভালো হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।এই সময়ে চাষিরা গাছে বিশেষ যত্ন নেন। বাগানগুলোতে চলছে নিয়মিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে। গাছের গোড়ায় দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সার ও সেচ। বিশেষ করে কুয়াশাজনিত ছত্রাকের আক্রমণ থেকে আগাম মুকুল রক্ষায় চাষিরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছিল। ওই মৌসুমে মোট উৎপাদন হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও একই পরিমাণ জমিতে আমচাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পুরনো বা অপ্রয়োজনীয় বাগান কেটে ফেলার কারণে বাস্তবে কিছুটা কম জমিতে চাষ হতে পারে। এবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।সরেজমিনে তানোর, বাঘা এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার আমবাগান ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা আগেভাগেই গাছের রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কেউ নিয়মিত স্প্রে করছেন, আবার কেউ গাছের গোড়া পরিষ্কার ও আগাছামুক্ত রাখছেন।তানোর উপজেলার আমচাষি রাকেশ চন্দ্র বলেন, এবছর শীত ও কুয়াশার প্রকোপ কম থাকায় মুকুলের ক্ষতি কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন,ইতোমধ্যে আগাম মুকুল দেখা দিতে শুরু করেছে। এখন নিয়ম মেনে পরিচর্যা করলে এবছর ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।বাঘা এলাকার আমচাষি আকরাম আলী জানান, নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ফলন স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে হপারসহ বিভিন্ন শোষক পোকা দমন না করা হলে ফলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব আমগাছে গত বছর ফল আসেনি, সেসব গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য জমা থাকায় এবং সামান্য শীতের আমেজ ও পর্যাপ্ত আলো পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগাম মুকুল দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে, যেসব গাছে খাদ্যের পরিমাণ তুলনামূলক কম, সেসব গাছে ধীরে ধীরে মুকুল আসবে। আর যেসব গাছে খাদ্য নেই, সেসব গাছে মুকুল আসার সম্ভাবনা নেই।অর্থাৎ যেসব গাছ প্রস্তুত বা ‘রেডি’ অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোতেই মুকুল আসছে; আর যেসব গাছ প্রস্তুত নয়, সেগুলোতে মুকুল আসছে না।তিনি আরও জানান,সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে আমগাছে মুকুল আসে। তবে এটি অনেকটাই ভৌগোলিক অবস্থান বা অক্ষাংশের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমে দক্ষিণাঞ্চল থেকে মুকুল আসা শুরু হয়। প্রথমে চট্টগ্রামের আমগাছে মুকুল দেখা দেয়, এরপর সাতক্ষীরা এবং পরে রাজশাহী অঞ্চলে মুকুল আসে।ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি এক ডিগ্রি অক্ষাংশের পার্থক্যের কারণে আমগাছে মুকুল আসতে প্রায় চার থেকে পাঁচ দিন সময় বেশি লাগে। সমুদ্র তীরবর্তী জেলা বা অক্ষাংশের কাছাকাছি এলাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম ঠান্ডা হওয়ায় সেখানে আগেই মুকুল আসে। রাজশাহী অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়তে কিছুটা সময় লাগে এবং অক্ষাংশের দিক থেকে দূরে হওয়ায় এখানে মুকুল আসতেও বিলম্ব হয়। উত্তরের দিকে যত এগোনো যায়, ততই আমগাছে মুকুল আসতে দেরি হয়।রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসিরুদ্দিন বলেন, আম উৎপাদনে ‘অল্টারনেট বেয়ারিং’ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর অর্থ এক বছর আম বেশি হয়, পরের বছর তুলনামূলক কম হয়, যা মূলত আমের জাতগত বৈশিষ্ট্যের কারণে ঘটে।তিনি আরও জানান, এবছর কিছুটা কম জমিতে আমচাষ হতে পারে, কারণ অনেক পুরনো আমবাগান কেটে ফেলা হচ্ছে। তবে বর্তমানে যেসব গাছে মুকুল এসেছে, সেগুলো থেকে আম উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এখন যে মুকুলগুলো এসেছে, সেগুলো নষ্ট হওয়ার তেমন কোনো সুযোগ নেই,বলেন তিনি।আমের মুকুল রক্ষায় করণীয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাধারণত মুকুল পর্যায়ে তিনবার স্প্রে করা প্রয়োজন।মুকুল আসার আগে একবার কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হয়। মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগে দ্বিতীয়বার স্প্রে করতে হয়।তৃতীয়বার স্প্রে করা হয়, যখন গুটি মটরদানার মতো আকার ধারণ করে। তবে সবকিছুই শেষ পর্যন্ত আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে।তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন এবং চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। গত বছর হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ছিল প্রায় ১২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন।চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ মেট্রিক টন। সুতরাং এবছর রাজশাহীতে আম উৎপাদন সন্তোষজনক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট