
পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ২৭ শহীদের স্মরণে দুঃখ প্রকাশ, তীব্র নিন্দা ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
ফুলগাজীর জামুড়া গ্রামে ১৯৭১ সালের গণহত্যাস্থল পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক
পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ২৭ শহীদের স্মরণে দুঃখ প্রকাশ, তীব্র নিন্দা ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবুল কাশেম অদ্য ১২ জানুয়ারি ২০২৫ইং, সোমবার সংক্ষিপ্ত সফরে ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার অন্তর্গত জামুড়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার দাগনভূঞা উপজেলার পরিচালক জনাব নুর ইসলাম সাহেব এবং ইনফরমেশন অফিসার জনাব কাজী নজরুল ইসলাম সাহেব।
জামুড়া গ্রামে এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদার বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত এক ভয়াবহ গণহত্যার স্মরণ ও প্রত্যক্ষ স্থান পরিদর্শন।
জানা যায়, ওই সময় পাক হানাদার বাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়ে একই পরিবারের ৭ জন সদস্যসহ নিকটতম আত্মীয়স্বজন মিলিয়ে মোট ২৭ জন নিরীহ নারী-পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
এই বর্বর হত্যাকাণ্ড আজও এলাকাবাসীর হৃদয়ে গভীর ক্ষত হয়ে রয়েছে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবুল কাশেম গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
তিনি বলেন,
“১৯৭১ সালের এই নির্মম গণহত্যা মানবতার ইতিহাসে এক জঘন্যতম অপরাধ। আজও এর বিচার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার পক্ষ থেকে পাক হানাদার বাহিনীর এই গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনোভাবেই ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না।
এ সময় তিনি ১৯৭১ সালে নিহত ২৭ জন শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন এবং আল্লাহ তায়ালার দরবারে তাঁদের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।
পরিশেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক বলেন,
“এই গণহত্যার জন্য পাক বাহিনীকে ইতিহাস ও মানবতার কাছে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলকে এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের স্বীকৃতি ও বিচার নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।”
স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এই গণহত্যাস্থলে এমন একটি মানবাধিকার সংগঠনের সফর এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর আবেগ ও সন্তোষের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই গণহত্যার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আরও গুরুত্ব পাবে।