
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: রুবেল হোসেন
পটুয়াখালীর বাউফলে এক জামায়াত কর্মীকে অপহরণ করে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে কালাইয়া–চন্দ্রদ্বীপ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।আহত জামায়াত কর্মীর নাম আবুল কাশেম (২৮)। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর মিয়াজান এলাকার মো. সোহেল রাড়ী, কালাইয়া এলাকার মো. সুজন, ফিরোজ খান, গুনহাস, রাশেদুল দর্জি, মো. সোহেল, হুমায়ুন দর্জি, রিপন শিকদার, আঃ আজিজ রাড়ী, রাকিব রাড়ী, বাদশা হাওলাদারসহ প্রায় ২৫-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল কাশেমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে হত্যার হুমকি দিয়ে তার গলায় ছুরি ধরে পায়ের রগ কাটার উদ্দেশ্যে উরুতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়।স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক বিরোধ ও একটি মামলার সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েকদিন আগে ওই এলাকার আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির দোকানে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন আবুল কাশেম।ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন।আজ মঙ্গলবার সকালে আহত কাশেমকে দেখতে হাসপাতালে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলার আমীর মাওলানা ইসহাক মিয়া ও নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম। এ সময় তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।এ সময় অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম বলেন,চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটছে।জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া থেকেই বিএনপি কর্মীরা অস্থিরতা শুরু করে। দোকান লুট ও চাঁদাবাজির পর পরিকল্পিতভাবে আবুল কাশেমকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। প্রশাসন সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এই রক্তপাত হতো না।এদিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সহিংসতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক রেষারেষিতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুর ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।