লিয়াকত আলী জেলা প্রতিনিধি ডিমলা (নীলফামারী):
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. তছলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রেমের সম্পর্কজনিত একটি ঘটনায় থানায় মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে তার প্রতিনিধি সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
জানা গেছে, সোমবার (১২ জানুয়ারি) মধ্যরাতে সাভার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত সেনা সদস্য মো. আলী হোসেনের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন ডিমলা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় পার্টি প্রার্থীর প্রতিনিধি মো. মাজেদ পাটোয়ারী প্রার্থীর নাম ও সিল ব্যবহার করে এজাহার গ্রহণে পুলিশের কাছে সুপারিশ করেন।এ ঘটনায় আটক হন সেনা সদস্য মো. আলী হোসেন (১৯), তার প্রেমিকা মতিরবাজার এলাকার খয়রাত মিয়ার (ছদ্মনাম) উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া কন্যা মোছাঃ হাসিনা আক্তার (ছদ্মনাম)। একইসঙ্গে সন্দেহভাজন হিসেবে গাজিউর রহমান (৫০), আবুল হোসেন (৫৫) ও দেলোয়ার হোসেনকে (৪৬) আটক করা হয়।ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করে জানায়, মামলা দায়েরের পর বিষয়টির গতিপথ অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়। তারা দাবি করেন, মেয়ের বাবার অভিযোগ গুরুত্ব পেয়েছে, কিন্তু একই ঘটনার বিষয়ে চাচা রোস্তম আলীর দেওয়া অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি।ভুক্তভোগী তরুণী জানান, “আমাদের মধ্যে প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।আলী হোসেন বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসে আমরা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়াই। পরবর্তীতে এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।অন্যদিকে সেনা সদস্য মো. আলী হোসেন বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর মেয়ের বাবার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছি। ছুটিতে বাড়িতে এসে দেখা করতে গেলে এলাকাবাসী আমাকে আটক করে এবং পরে আমাদের বিয়ে দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার বলেন,অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি।জাতীয় পার্টির প্রার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন,
“আমি বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। ঘটনা জানার পর প্রতিনিধি মাজেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে তার ভুল স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মাজেদ পাটোয়ারী বলেন,আমি প্রার্থীর সদস্য সচিব ও নির্বাচনের প্রস্তাবকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সিল ব্যবহার করছি। এতে কোনো ভুল করিনি। আমাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।এ বিষয়ে নীলফামারী-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন,নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তার প্রতিনিধি থানায় মামলা বা প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব খাটাতে পারেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬