
লিয়াকত আলী জেলা প্রতিনিধি নীলফামারীর
দৈনিক প্রভাতি বাংলাদেশ সোমবার (১২ জানুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার মতিরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।আটক সেনা সদস্যের নাম মোঃ আলী হোসেন (১৯)। তিনি ডিমলা উপজেলার টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খরিবাড়ী এলাকার তেলিবাজার গ্রামের বাসিন্দা মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাভার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত রয়েছেন। ভুক্তভোগী মেয়েটি মতিরবাজার এলাকার খয়রাত ইসলাম (৪৭) (ছদ্মনাম) এর উচ্চমাধ্যমিক পডুয়া মেয়ে মোছাঃ হাসিনা (১৮) (ছদ্মনাম) স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন থেকে চার বছর ধরে ওই মেয়ের সঙ্গে সেনা সদস্য আলী হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগদানের পর আলী হোসেন বিয়ের বিষয়ে গড়িমসি শুরু করলে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।সোমবার রাতে আলী হোসেন মেয়েটির বাড়িতে গেলে পরিবার ও এলাকাবাসী তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় উভয়েই প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। পরে মেয়ের পরিবার বিয়ের দাবি জানালে আলী হোসেন সম্মতি দেন। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়।এলাকাবাসী জানান, ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের উদ্যোগে পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনা সদস্য ও ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, “দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের আশ্বাসে আমি তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়াই। পরবর্তীতে এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।সেনা সদস্য মোঃ আলী হোসেন বলেন, “প্রশিক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর আমি মেয়ের বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিয়ের প্রস্তাব দিই। ছুটিতে বাড়ি এসে দেখা করতে গেলে এলাকাবাসী আমাকে আটক করে এবং পরে আমাদের বিয়ে দেওয়া হয়।সেনা সদস্যের বাবা মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, “ঘটনার রাতে আমি থানায় একটি এজাহার দায়ের করি। পরে পুলিশ আমার ছেলেসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে যায়। মীমাংসার প্রস্তাব দিলেও মামলা হওয়ায় তা আদালতে পাঠানো হচ্ছে বলে জানানো হয়।ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শওকত আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সেনা সদস্যসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে।