
মোঃ রেদোয়ান উল্লাহ উপজেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী(বাউফল)
বাউফল উপজেলার কালাইয়া-চন্দ্রদ্বীপ রুটের ট্রলার চালক এক গরীব অসহায় জামায়াত কর্মীকে অপহরণের পর কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।গতকাল সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৯:৩০ টায় উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।আহত ব্যক্তির নাম আবুল কাশেম (২৮)। তিনি বর্তমানে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চর মিয়াজান এলাকার মো. সোহেল রাড়ী (৩২), কালাইয়া এলাকার মো. সুজন (৩২), ফিরোজ খান (২৮), গুনহাস (২৭), রাশেদুল দর্জি (২৬), মো. সোহেল (২৮), হুমায়ুন দর্জি (৩০), রিপন শিকদার, আঃ আজিজ রাড়ী (৩২), রাকিব রাড়ী ও বাদশা হাওলাদার (৩৭) সহ আরো ২৫-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল কাশেমকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এক পর্যায়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে গলায় ছুরি ধরে এবং পায়ের রগ কাটার উদ্দেশ্যে উরুর উপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।জানা গেছে, এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধ এবং একটি মামলার সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে এই হামলার সূত্রপাত। গত কয়েকদিন আগে ওই এলাকার আবুল হোসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তির দোকানে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আবুল কাশেম ওই মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন।হামলার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলার নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে তাকে দেখতে যান এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।আজ মঙ্গলবার সকালে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত কাশেমকে দেখতে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলার আমীর মাওলানা ইসহাক মিয়া এবং নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম।এ সময় অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “চন্দ্রদ্বীপে একের পর এক বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। জামায়াতের সাংগঠনিক প্রোগ্রামে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি কর্মীরা এই অস্থিরতা শুরু করে। এরপর দোকান লুট ও চাদাবাজি করা হয়েছে। গতকাল রাতে তারা আবুল কাশেমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালায়। প্রশাসন সময়মতো ব্যবস্থা নিলে আজ এই রক্তপাত হতো না।দ্বীপ ইউনিয়ন চন্দ্রদ্বীপে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তা হীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক রেষারেষিতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।