
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সময়ের অন্যতম দাবি: রাজশাহীতে ড. বদিউল আলম মজুমদার
রাজশাহী, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান।
দেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও জনআস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি—এমন মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে কাঠামোগত ও মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সুজন আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে কালো টাকার প্রভাব ও পেশিশক্তিনির্ভর কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও বিপুল অর্থ জোগান দিতে না পারায় যোগ্য প্রার্থীরা মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও অসুস্থ চর্চার স্পষ্ট প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনে। অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবর্তে ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থরক্ষায় কাজ করেছেন। এর ফলে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সংবিধান প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. বদিউল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যেই সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ব্যাপক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়তে থাকে এবং এর পরিণতিতে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি করা হয়, যার ফলে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার স্মরণ করেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোর একটি, যা আজও উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সংলাপে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বিষয়ে নিজেদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।