দিলীপ কুমার দাশ, স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শুকুরনগর গ্রামে অবস্থিত দেড় শতবর্ষী শিব মন্দির প্রাঙ্গণ জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে অন্য একটি সংঘের বিরুদ্ধে। দখলদারিত্বের কারণে মন্দিরের সম্প্রসারণ, ছায়া মণ্ডপসহ সকল উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে বলে অভিযোগ করেছেন শিব সংঘ শুকুরনগর।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দিরাই উপজেলার শুকুরনগর মৌজার দাগ নং ১৫৮৪, জে এল নং ৮০-এর দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবস্থিত উক্ত শিব মন্দিরে প্রায় দেড়শত বছরেরও বেশি সময় ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।২০১৪ ইং সনে গ্রাম বাসী একত্রিত হয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ক্রমে শুকুরনগর শিব সংঘ কে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উক্ত দেবোত্তর স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যার প্রাথমিক মেয়াদ কাল ১৫ বছর নির্ধারণ করা হয়।শিব সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মন্দির সম্প্রসারণের জন্য মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু একটি ভিন্ন সংঘ দুর্গাপূজার অজুহাতে নির্মিত অস্থায়ী মণ্ডপ ও টিনের ঘর জোরপূর্বক দখল করে রাখায় বর্তমানে সব উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।আরও জানা যায়, ২০২৪ সালে শিব সংঘ ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে সাময়িক অনুমতি নেয় এবং দূর্গাপূজা করেন অস্থায়ী মণ্ডপ ও টিনের ঘর অপসারণ করা হয় ঠিক ২০২৫ সালেও দুর্গাপূজা আয়োজনের জন্য শিব সংঘ ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে সাময়িক অনুমতি নেওয়া হলেও পূজা শেষে নিয়ম অনুযায়ী অস্থায়ী মণ্ডপ ও টিনের ঘর অপসারণ করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট সংঘ স্থাপনাগুলো জোরপূর্বক দখলে রেখে মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থান করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, বারবার অনুরোধ ও তাগাদা দেওয়ার পরও দখলদার সংঘ মণ্ডপ ও টিনের ঘর অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে শিব মন্দিরের বর্ধিতকরণ, ছায়া মণ্ডপসহ সকল উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।শিব সংঘের সভাপতি সুশীল কুমার তালুকদার বলেন, ২০২০ সালে শিব সংঘের অর্থায়নে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় শিব মন্দির প্রাঙ্গণে ছায়া মণ্ডপ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পাশের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে টিনের ঘর তুলে রাখায় আজ পর্যন্ত কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এটি দেবোত্তর সম্পত্তির সরাসরি লঙ্ঘন।শিব সংঘের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন সীল জানান,
শিব মন্দিরের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজে মাটি ভরাট সহ বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু অবৈধ দখল উচ্ছেদ না হওয়ায় বর্তমানে সব উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।শিব সংঘের সদস্য সুব্রত দাস চৌধুরী বলেন,
দুর্গাপূজার অনুমতি ছিল সম্পূর্ণ অস্থায়ী। পূজা শেষ হলেও টিনের ঘর ও মণ্ডপ সরানো হয়নি, যা নিয়মবহির্ভূত ও অন্যায়।এ বিষয়ে শিব সংঘের সদস্য রন্টু দাস, সুরঞ্জিত দেবনাথ ও রনজিৎ বৈষ্ণব একযোগে বলেন,
দেবোত্তর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রাখা ধর্মীয় শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি। দ্রুত উচ্ছেদ না হলে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।এ ঘটনায় শিব সংঘের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন সীল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগপত্রে জোরপূর্বক দখল উচ্ছেদ, অবৈধভাবে নির্মিত টিনের ঘর ও অস্থায়ী মণ্ডপ অপসারণ এবং শিব মন্দির প্রাঙ্গণে উন্নয়ন কাজ নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্দির প্রাঙ্গণ দখলমুক্ত না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬