মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
লেমুয়া ইউনিয়নের কেরনিয়া–ফাজিলপুর–মোটবী এলাকায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে তীব্র জনক্ষোভ
বারবার জানানো সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেই—ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ ফেনী সদর উপজেলার ৯ নম্বর লেমুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কেরনিয়া, ফাজিলপুর ও মোটবী এলাকায় প্রকাশ্যে ও নির্দ্বিধায় চলছে অবৈধ মাটি কাটার ভয়াবহ মহাউৎসব। ফসলি জমি গভীরভাবে কেটে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল বিশাল গর্ত, যা স্থানীয়দের ভাষায় এখন “সাগরের” রূপ নিয়েছে। দিনের আলো থেকে শুরু করে রাতের আঁধার দু’সময়েই ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রভাবশালী চক্রের দাপটে ধ্বংস হচ্ছে কৃষিজমি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এসব এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই ফসলি জমি ধ্বংস করে কোটি টাকার মাটি পাচার হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।এতে একদিকে কৃষকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ সংকট। ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না সাধারণ মানুষ
এলাকার সাধারণ জনগণ ও কৃষকদের অভিযোগ, মাটি খাদকরা এতটাই বেপরোয়া ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।কেরনিয়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমাদের ফসলি জমি কেটে পুরো এলাকা ধ্বংস করে ফেলছে। কিন্তু কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এখন মনে হচ্ছে আমরা একেবারেই অসহায়।এসিল্যান্ডকে জানানো হলেও মিলেনি প্রতিকার এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফেনী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এসিল্যান্ড মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন–কে একাধিকবার ফোনে অবৈধ মাটি কাটার বিষয়টি জানানো হয়।স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার রাতে তাকে ফোন করলে তিনি ঘটনাস্থলে আসার আশ্বাস দেন। প্রথমে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আসার কথা বললেও পরে আবার ফোন করলে ১০ মিনিটের মধ্যে আসবেন বলে জানান।কিন্তু রাত ১২টা পেরিয়ে গেলেও তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন,
এতে আমাদের আর কিছু বোঝার বাকি থাকে না। প্রশাসন যদি এভাবে নীরব থাকে, তাহলে আমরা কার কাছে যাব? আইন কি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য?কৃষি ও পরিবেশ চরম হুমকির মুখে স্থানীয় কৃষকদের মতে, এভাবে মাটি কাটার ফলে জমিগুলো চাষের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে এই এলাকায় খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে এসব গভীর গর্তে পানি জমে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শিশু ও গবাদিপশুর জন্য এটি ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে।পরিবেশবিদদের মতে, ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি করা শুধু আইনবিরোধী নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে এলাকার ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।দ্রুত কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি লেমুয়া ইউনিয়নের কেরনিয়া, ফাজিলপুর ইউনিয়ন ও মোটবী ইউনিয়ন এলাকার সাধারণ জনগণ অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।এলাকাবাসীর প্রশ্ন ফসলি জমি রক্ষা পাবে তো? নাকি প্রশাসনের নীরবতায় ‘সাগর’ আরও গভীর হবে?
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬