নিজস্ব প্রতিবেদক
স্মার্টফোনের জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর ডিজিটাল প্রতারণার জাল। সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে অনলাইন জুয়া বা বেটিং সাইটে যুক্ত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের মূল হোতা বা 'মাস্টারমাইন্ড' হিসেবে উঠে এসেছে দেশি ও বিদেশি দুটি বিশেষ নম্বর।
সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, "ASK13_20260117" নামক বিভিন্ন গ্রুপ খুলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের সেখানে যুক্ত করা হচ্ছে। গ্রুপগুলোতে চটকদার সব অফার দেওয়া হয়, যেমন— ১০০% ডিপোজিট বোনাস, মাত্র ৫ মিনিটে টাকা উত্তোলনের গ্যারান্টি এবং স্লট গেমে জেতার উচ্চ হার। ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও আকর্ষণীয় ভিডিও।
প্রতারণার এই গ্রুপগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূলত দুটি নম্বর থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। চক্রের মূল হোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে:
১. +৮৮০ ১৬০১-৩৩৯৮৭০ (বাংলাদেশি নম্বর, যা গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে সক্রিয়)
২. +২৭ ৮৪ ৭৭৬ ৫৯৭৮ (দক্ষিণ আফ্রিকার কোড ব্যবহারকারী নম্বর, যা থেকে নিয়মিত লিফলেট ও অফার পাঠানো হচ্ছে)
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বিদেশি নম্বর এবং ফেক বাংলাদেশি সিম কার্ড ব্যবহার করছে।
গ্রুপগুলোতে '67bd9.com' এর মতো বিভিন্ন সন্দেহজনক ডোমেইনের লিঙ্ক শেয়ার করা হচ্ছে। এই লিঙ্কে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীর ফোনের নিরাপত্তা ঝুঁকি (Phishing) তৈরি হতে পারে। শুরুতে ছোট অংকের টাকা জেতার লোভ দেখিয়ে পরে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করিয়েই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এই চক্র।
এ বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরিচিত কেউ কোনো গ্রুপে যুক্ত করলে এবং সেখানে টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখালে তা শতভাগ প্রতারণা। ব্যবহারকারীদের উচিত তৎক্ষণাৎ ওই গ্রুপ রিপোর্ট করা এবং নম্বরগুলো ব্লক করা।
পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট সাধারণ মানুষকে এ ধরণের অনলাইন বেটিং বা জুয়া থেকে দূরে থাকার জন্য বারবার সতর্ক করে আসছে। জুয়া খেলা এবং এর প্রচার করা উভয়ই বাংলাদেশের আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।আপনার পরিচিত কেউ যদি এই নম্বরগুলো থেকে মেসেজ পায় বা গ্রুপে যুক্ত হয়, তবে দ্রুত তাকে সতর্ক করুন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬