
অপু দাস, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান
অবৈধ অস্ত্রের মজুত, গোপন আস্তানা কিংবা চরমপন্থি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করলে তথ্যদাতাকে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তার পরিচয় শতভাগ গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এমন ঘোষণা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।শনিবার বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আয়োজিত এই সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা অংশ নেন।আইজিপি বলেন, দেশের কোথাও অবৈধ অস্ত্রের মজুত, চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা কিংবা নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা গোপনে পুলিশের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমেই অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।তিনি জানান, সম্প্রতি কয়েকটি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বিস্ফোরক ও নাশকতার আলামতের সন্ধান পাওয়া গেছে। যদিও আগের তুলনায় বর্তমানে চরমপন্থি কার্যক্রম অনেকাংশে কমে এসেছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ে আত্মতুষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সামান্য অবহেলাও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।আইজিপি আরও বলেন, তল্লাশি অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।ধর্মীয় উগ্রবাদ ও চরমপন্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে কোনো শৈথিল্য দেখানো হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের সব পুলিশ সদস্যকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন আইজিপি। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হবে সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদ ও নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বলপ্রয়োগের বিষয়ে আইজিপি বলেন, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) ও পুলিশ রেগুলেশনে যে নির্দেশনা রয়েছে, তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আইন প্রয়োগে কোনো নতুন বিধিনিষেধ নেই। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ, ভয়ভীতি কিংবা অবৈধ প্রলোভনে প্রভাবিত হওয়া যাবে না।
নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এ কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে গঠিত এনফোর্সমেন্ট ও অনুসন্ধান কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। ভোটের দিন সব ইউনিটকে সক্রিয় রেখে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।আইজিপি বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে পুলিশের ভাবনার প্রয়োজন নেই। পেশাদারিত্ব, আত্মমর্যাদা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করলেই পুলিশের সাফল্য নিশ্চিত হবে।সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিললুর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান।